মেঘনা নদীর বিশাল জলরাশি আর ভাসমান নৌকাই যাদের ঘর-সংসার, সেই মানতা সম্প্রদায়ের জীবনে একসময় শিক্ষার আলো ছিল সুদূর পরাহত। বংশপরম্পরায় নৌকাতেই জন্ম আর নদীতেই মাছ ধরা—এই ছিল তাদের নিয়তি। কিন্তু সেই নিস্তরঙ্গ জীবনে পরিবর্তনের জোয়ার নিয়ে এসেছে 'মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা'।
২০০৮ সালে প্রফেসর মো. আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়ার হাত ধরে 'মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন' নামে যে আলোকযাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পূর্ণতা পেয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্টের পরিচালনায়। স্থানীয় সোহরাব মাঝি, রহমান বয়াতি ও করিমন বেওয়ারা সেদিন যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন, তার সুফল ভোগ করছে আজকের কয়েকশ শিক্ষার্থী।
জেসমিন নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘আগে ভাবতাম সারাজীবন নদীতেই মাছ ধরব। স্কুলে এসে জানতে পেরেছি পৃথিবীটা কত বড়।’ ইয়াসিন, বাদশা বা রাসেলের মতো শত শত শিশু এখন আর কেবল মাঝিমাল্লা হওয়ার কথা ভাবে না, তারা চায় পড়াশোনা করে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের মূল স্রোতে মিশতে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শোয়াইব হোসেন বলেন, ‘এই প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার যে আলো জ্বলে উঠেছে, তা যেন কখনো নিভে না যায়। এই শিশুরা যেন তাদের স্বপ্ন পূরণ করে সমাজের মূল স্রোতে মিশে যেতে পারে।’