default-image

গতকাল সোমবার বিকেলভর রাজশাহী নগরের তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় আলোর পাঠশালায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অতিথিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। পলান সরকারকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, অতিথিদের বিভিন্ন চমকপ্রদ প্রশ্নের কুইজ প্রতিযোগিতা, গান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পলান সরকারকে কেউ বলেছেন বইপ্রেমী, কেউ বলেছেন বই পাগল। শিশুরা আদর করে ডেকে থাকে বইদাদু। যে নামেই ডাকা হোক, এই মানুষের জন্মই হয়েছিল জ্ঞানের আলো ছড়াবার জন্য। ১৯২১ সালের ১ আগস্ট তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়ার নূরপুর মালঞ্চী গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন। ২০১৯ সালের ১ মার্চ মারা যান তিনি। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে রাজশাহী নগরের তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত আলোর পাঠশালার আয়োজনে বই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আলোর পাঠশালার আয়োজনে এতে বই সরবরাহ করেছে আলোঘর প্রকাশন। সহযোগিতায় ছিল রাজশাহী বন্ধুসভা।

default-image

বই উৎসবে প্রথম আলো রাজশাহী বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইয়েদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিপ্লব কুমার মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভিরুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বনি আদম, রাজশাহী প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, আলোর পাঠশালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজিনা খাতুন, রাজশাহী বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি বেলাল হোসেন, বর্তমান সভাপতি সাব্বির খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি সুরুজ সরদার, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, আলোঘর প্রকাশনার জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসনাত মোবারক প্রমুখ।

পলান সরকারকে নিয়ে বক্তারা বলেন, পলান সরকার শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে এনে জ্ঞানের অন্য শাখার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্য বইগুলোও পড়া দরকার। সেই সঙ্গে নিজেকে, নিজের বাবা-মা ও দেশকে ভালোবাসা দরকার। সেই ভালোবাসা জন্মাতে পারে পলান সরকারের দেখানো বই পড়ার মাধ্যমে।

default-image

আলোর পাঠশালায় বিকেল থেকে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা, গান ও আড্ডায় শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে। শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কনের বিচারক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক বনি আদম। বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানজুড়ে বন্ধুসভা রাজশাহীর সাংগঠনিক সম্পাদক পরয়ার হাসানসহ পাঠশালার শিক্ষার্থীরা গান পরিবেশন করেন। এতে বন্ধুসভা রাজশাহী, রাজশাহী ও বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা ছিলেন।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা বই কিনে। অনেকে বই কিনে পড়া শুরু করে। কেউ কেউ ছবি তোলে। শিক্ষার্থীরা জানান, এমন একজন গুণী মানুষের জন্মদিনে তারা অনেক কিছু শিখেছে। এখানে আগত অতিথিদের বক্তব্য তারা শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছে। বই উৎসবে বই কিনেছে।

আলোর পাঠশালা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন