পারিবারিক অভাব-অনটন এবং বিয়ের সামাজিক চাপকেও উপেক্ষা করে পড়াশোনার প্রতি অদম্য স্পৃহা দেখিয়েছেন রাজশাহীর মোসা. তামান্না খাতুন। এক বড় স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠা তামান্না স্বপ্ন দেখেন একদিন একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন। শহরে বেড়ে উঠলেও আর্থিক সংকটের কারণে তার ছোটবেলা থেকেই নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এই সংগ্রাম শুরু হয়। ঠিক যখন সে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন পারিবারিক পছন্দে তার বিয়ে হয়ে যায়। অনেকের ধারণা ছিল, হয়তো এখানেই তার শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটবে। শ্বশুরবাড়িতেও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ ছিল না।
তবে তামান্না নিজের স্বপ্নকে মরতে দেননি। নিজের বুদ্ধি, ধৈর্য এবং কৌশলের মাধ্যমে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করেন। তার এই কঠিন যাত্রায় আলোর দিশা হয়ে পাশে দাঁড়ায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহীর আলোর পাঠশালা। প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষার সুযোগই দেয়নি, দিয়েছে স্বপ্ন দেখার সাহস এবং শিক্ষকরা দিয়েছেন নিরন্তর অনুপ্রেরণা।
সকল বাধা অতিক্রম করে তামান্না সফলভাবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এখন উচ্চতর শিক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিশ্বাস, শিক্ষা মানুষকে বদলে দেয় এবং সমাজকে আলোকিত করে। তামান্না বলেন, ' আমার স্বপ্ন একজন শিক্ষক হওয়া। আমি চাই বাচ্চাদের মাঝে পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি করতে। আর যদি শিক্ষক হতে না-ও পারি, অন্তত একজন শিক্ষিত মা হয়ে আমার সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলব।'