লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের নদীঘেঁষা এলাকা মজুচৌধুরীর হাটে অবস্থিত প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত সামাজিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা’। এই পাঠশালায় গত রোববার (২ আগস্ট) সুশৃঙ্খল পরিবেশে বার্ষিক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মেঘনা উপকূলীয় দুর্গম চরাঞ্চলের অবহেলিত, প্রান্তিক ও বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়ের শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছানো এবং অভিভাবকদের মতামত নেওয়ার জন্যএই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ, স্কুল পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্যগণ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক প্রথম আলো ট্রাস্টের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘নদীভাঙন ও নানাবিধ অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনসংগ্রাম করা এই চরাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রথম আলো ট্রাস্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেবল বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই যথেষ্ট নন; বাড়িতেও যেন শিশুরা পড়ার উপযোগী পরিবেশ পায়, সেজন্য অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিবিড় তদারকি অত্যন্ত জরুরি।’
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ মজুচৌধুরীর হাটের এই আলোর পাঠশালার নানামুখী অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন, দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে প্রথম আলো ট্রাস্টের এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ। উপযুক্ত পরিবেশ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে এ অঞ্চলের অবহেলিত শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হবে।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে জেলে ও শ্রমজীবী পরিবারের অভিভাবকেরা তাদের জীবিকার নানা টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সন্তানদের সুশিক্ষিত করার আকুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, প্রথম আলো ট্রাস্টের পরিচালনায় এই পাঠশালা না থাকলে তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ পাওয়া একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। এ ধরনের আয়োজন তাদের নিজেদের অভিভাবকত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন করে তুলেছে। শিক্ষকমণ্ডলীও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অভিভাবকদের কথা শোনেন এবং বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা তদারকি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার মান আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরিশেষে, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মহোদয় উপস্থিত শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেشی সমাপ্তি ঘোষণা করেন।