বান্দরবানে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষকের অংশগ্রহণ

বান্দরবানে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক লাপ্রাদ ত্রিপুরা।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ হল কক্ষে গত ৭ মে ২০২৬ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা’ বিষয়ক দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নৈতিকতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উক্ত কর্মশালায় দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক লাপ্রাদ ত্রিপুরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বর্তমান সমাজে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সততার চর্চা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই কর্মশালায় মূল আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা হলেন সমাজের চালিকাশক্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের কারিগর। শিক্ষকরা যদি নিজ নিজ অবস্থানে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখেন, তবে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। কর্মশালায় প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠান কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক লাপ্রাদ ত্রিপুরার উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দুর্গম এলাকায় নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় কীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে তিনি প্রশিক্ষণ সেশনে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

কর্মশালা শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় লাপ্রাদ ত্রিপুরা বলেন, ' দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে ক্লাসরুমই হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এই প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান আমি আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেব। দুর্গম কচ্ছপতলী অঞ্চলের শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, বরং নৈতিক ও সততার শিক্ষায় বলীয়ান করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।'

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়:

সততা সংঘ গঠন: প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে 'সততা সংঘ' এবং 'সততা স্টোর' চালুর মাধ্যমে সততার চর্চা বাড়ানো।

জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

পাহাড়ি অঞ্চলে সচেতনতা: দুর্গম ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাঝে আইনি অধিকার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়গুলো সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়া।

সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারকদের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সুশাসনের বার্তা পৌঁছে যাবে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে এই কর্মশালা দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।