নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় উদ্যাপিত হলো কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬। গত ১৮ আগস্ট ২০২৬তারিখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের পুলিশ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. মোতালেব হোসেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আশপাশের ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকমণ্ডলীর অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রথম আলো ট্রাস্টের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভীমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নার্গিস পারভিন বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সঠিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে চলতে এবং মানুষের মতো মানুষ হতে অনুপ্রেরণা জোগায়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিত দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘প্রথম আলো ট্রাস্ট যদি এখানে আলোর পাঠশালা প্রতিষ্ঠা না করত, তবে আমরা এই পিছিয়ে পড়া গ্রাম থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো পেতাম না।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমাদের সময়ে পড়াশোনার জন্য দূরে হেঁটে যেতে হতো, ফলে গ্রামের অনেকেই পড়ার সুযোগ পেত না। এমন একটি গ্রামে আলোর পাঠশালা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’
জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, ‘এই সাফল্য পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আলোর পাঠশালা না থাকলে হয়তো আজকের এই আনন্দের দিনটি দেখতে পেতাম না। আমি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
আলোচনা সভা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে উপহারস্বরূপ ডায়েরি, কলম এবং সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানমালার শেষ পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথি ও উপস্থিত সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়, যা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত আলোর পাঠশালা থেকে এই বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২৬ জন। পাসের হার ৬৫ শতাংশ। এই ২৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার মোসা. সাফিয়া খাতুন ও মোসা. নুসরাত জাহান জিপিএ-৫ পেয়েছে। গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা থেকে এ বছর ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন কৃতকার্য হয়েছে।