নদীভাঙনও দমাতে পারেনি সুমাইয়াকে

মদনপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. সুমাইয়া।

প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে যে সব বাধাই হার মানতে বাধ্য, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছে মোসা. সুমাইয়া নামের এক কিশোরী। নদীভাঙনের শিকার হয়ে পরিবারসহ বাস্তুচ্যুত হলেও দমে যায়নি সে; বরং শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন করে শুরু করেছে তার লড়াই। নোয়াখালীতে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ভোলা জেলার দৌলতখানের মদনপুরে আশ্রয় নেয় সুমাইয়ার পরিবার। বাবা দুলাল ও মা রিনার চার সন্তানের মধ্যে সুমাইয়া সবার বড়। তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন সে। নোয়াখালীতে থাকার সময় মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ হয়েছিল তার। এরপর নদীর করাল গ্রাসে ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারানোর পর পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকার পর গত বছর মদনপুরে এসে সুমাইয়া জানতে পারে মদনপুর আলোর পাঠশালা নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা। দীর্ঘ বিরতির পর পড়াশোনা পুনরায় শুরু করার অদম্য সাহস নিয়ে সে বিদ্যালয়টিতে যোগাযোগ করে এবং সরাসরি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনায় একটি বড় বিরতি তৈরি হলেও আলোর পাঠশালার শিক্ষকদের আন্তরিকতায় সুমাইয়া নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করালেও শিক্ষকরা তাকে অত্যন্ত যত্ন ও ভালোবাসার সাথে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলো নতুন করে শিখিয়ে নিচ্ছেন, যেন সে মূল ধারার শিক্ষার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সুমাইয়া বলে, ' নদীভাঙনের পর আমার পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখানে এসে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষকরা যেভাবে যত্ন নিয়ে প্রাইমারির পড়াগুলো আবার শিখিয়ে দিচ্ছেন। তাতে আমার জীবনের নতুন একটি পথ খুলে গেছে।'