প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যায় আফিফা মনি

বাবার স্বপ্ন পূরণে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যায় দমদমিয়া আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিফা মনি।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আফিফা মনি, যে অল্প বয়সেই পিতৃহারা হয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বাবা মনির আলমের অকাল মৃত্যুর পর পরিবারে নেমে আসে গভীর আর্থিক অনিশ্চয়তা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মা মিনারা বেগমের কাঁধে এখন ছোট দুই ভাইবোনসহ পুরো সংসারের ভার।

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হার মানেনি আফিফা। বাবার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে। মেধাবী ও পরিশ্রমী এই ছাত্রী প্রতিদিন ভোরে উঠে ঘরের কাজ সেরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যায়। স্কুল শেষে মায়ের হাতের কাজে সাহায্য করে এবং রাত জেগে কুপির আলোয় পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ আফিফা মনিকে মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছাত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তারা জানান, আর্থিক সংকট সত্ত্বেও আফিফার এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। শিক্ষকরাও তাকে সাধ্যমতো সহায়তা করছেন।

আফিফার স্বপ্ন বড় হয়ে শিক্ষক হওয়া। সে বিশ্বাস করে, শিক্ষাই দারিদ্র্য থেকে মুক্তির পথ। তার মা মিনারা বেগমও চান, মেয়ে লেখাপড়া করে একদিন পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করবে। সমাজের সচেতন মহল মনে করছেন, আফিফা মনির মতো সংগ্রামী ও স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীদের পাশে বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারবে। সামান্য সহযোগিতা যেমন শিক্ষার উপকরণ, যাতায়াত সহায়তা বা পুষ্টিকর খাবার—এই কিশোরীর জীবন বদলে দিতে সক্ষম। জীবনযুদ্ধে হার না মানা আফিফা মনি আজ সাহস, অধ্যবসায় ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।