কাঁচা রাস্তার কাদা-ধুলা পেরিয়ে প্রতিদিন হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার গুড়িহারী শালবাড়ি গ্রামের মোশরেফা খাতুন। সে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা পেশায় একজন প্রান্তিক কৃষক এবং মা গৃহিণী। তিন বেলা পেট ভরে ভাত জোটাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে মোশরেফার চোখে কেবলই আলোর দিশা আর বড় হওয়ার অদম্য স্বপ্ন।
সংসারের চরম অভাব-অনটনের মাঝেও পড়ালেখার প্রতি মোশরেফার তীব্র জেদ ও মেধা নজর কেড়েছে শিক্ষক থেকে শুরু করে এলাকাবাসীর। বাসায় একটি পড়ার টেবিল পর্যন্ত নেই; রাতে বিদ্যুতের অভাবে কুপি বা হারিকেনের মিটিমিটি আলোতেই চলে তার পড়াশোনা। পুরনো কিন্তু পরিপাটি পোশাক পরে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় পড়তে আসে সে। সামাজিক নানা প্রতিকূলতা আর মানুষের অবহেলা সত্ত্বেও তার একটাই লক্ষ্য—বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া। মোশরেফা জানায়, ‘আমি বড় হয়ে গ্রামের গরিব মানুষদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিতে চাই, আর বাবা-মায়ের সব কষ্ট দূর করতে চাই।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মোশরেফা শ্রেণিকক্ষের সবচেয়ে মনোযোগী শিক্ষার্থী। তার এই অদম্য মেধাকে বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে এসেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। সময়মতো বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য তাকে সাইকেল প্রদানসহ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোশরেফার বাবা আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, বড় পরিবার চালাতে হিমশিম খাই। তবে আলোর পাঠশালা থাকায় আমাদের মতো গরিবদের সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হয়নি। ভালো রেজাল্ট আর পড়ার আগ্রহ থাকলে প্রথম আলো ট্রাস্ট সাহায্য করে।’
গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শুধু দারিদ্র্যের কারণে বহু প্রতিভাবান শিক্ষার্থী অঙ্কুরেই ঝরে যায়। একটু সুযোগ পেলে এরা নিজেদের বিকশিত করতে পারে। আমরা যেন এমন মেধাবীদের পাশে দাঁড়াই, যেন কোনো প্রদীপ নিভে না যায়।’