তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যেও সেবিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে সিমা খাতুন

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা: সিমা খাতুন সেবিকা হতে চায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চট্টিগ্রামের বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা: সিমা খাতুন। তার চোখ ভরা স্বপ্ন, যা কিনা তীব্র দারিদ্র্যের কালো ছায়াকেও ম্লান করে দেয়। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—লেখাপড়া শেষ করে একজন সেবিকা (নার্স) হওয়া। অভাব-অনটনের সঙ্গে নিত্য সংগ্রাম করেও সিমা তার স্বপ্নকে জীবন্ত রেখেছে। সিমার পরিবারে আছেন বাবা মোঃ খাইরুল ইসলাম, মা মোসাঃ সুফিয়া বেগম এবং তিন ভাই-বোন। তার বাবা দিনমজুরির পাশাপাশি ক্ষুদ্র মনোহারি সামগ্রীর ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালান। বড় ভাই পারিবারিক অভাবের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সিমার মনে অদম্য জেদ—তাকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে।

সিমা জানায়, ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ মানুষের কষ্ট দেখে তার মন খারাপ লাগতো এবং তাদের সেবা করার একটি প্রবল ইচ্ছা তার মনে জন্ম নেয়। সেবিকা হয়ে মানুষের এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করতে চায় সে। তার মতে, ' একটি সুস্থ সমাজ গড়তে হলে প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজন, আর সেই কাজে আমই আমার জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে অবদান রাখতে চাই। যাতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জন্য কিছু একটা করতে পারি।'

মেয়ের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বাবা-মাও অত্যন্ত গর্বিত। নিজেদের সামান্য আয়ের মধ্যেও তারা মেয়ের পড়ালেখার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা চান, মেয়েটা যেন ভালো করে লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়। সিমা খাতুনের সহকারী শিক্ষক মো: তাকদিরুল ইসলাম তার এই স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় সংকল্পকে সমর্থন করেন এবং মনে করেন সিমা পরিশ্রমের মাধ্যমে ঠিকই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও সিমার সেবিকা হওয়ার এই স্বপ্ন সমাজের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।