দারিদ্র্য জয় করে নার্সিং পড়ছেন আলোর পাঠশালার লিটন

গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. লিটন বাবু বর্তমানে রাজশাহীর হেলথ কেয়ার নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।

চরম আর্থিক অনটন ও দারিদ্র্যকে জয় করে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন মো. লিটন বাবু। নওগাঁর গুড়িহারী-কামদেবপুর এলাকার এক ভ্যানচালক বাবার সন্তান লিটন সব বাধা পেরিয়ে বর্তমানে রাজশাহীর হেলথ কেয়ার নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।

লিটনের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। তাঁর বাবা মো. আমিনুর রহমান ভ্যান চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়ে পরিবার চালানোই কষ্টকর ছিল। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও খরচের অভাবে লিটনের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় তিনি জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

ছোটবেলা থেকেই মানবসেবার লক্ষ্য থাকা লিটন নার্সিংয়ে পড়ার পাশাপাশি বর্তমানে পার্টটাইম চাকরি ও টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাচ্ছেন। এছাড়া তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এবং স্থানীয় দুটি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্ট তৈরির কাজ করছেন। ছেলের এই সাফল্যে আনন্দিত বাবা আমিনুর রহমান বলেন, ' আমি গরিব মানুষ, জমি বলতে কিছুই নেই। ভ্যান চালিয়ে পড়ার খরচ দিতে পারি নাই। ছেলেই কষ্ট করে নিজের পড়ার খরচ চালাচ্ছ। আল্লাহ যেন ওর ইচ্ছা পূরণ করেন।' নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে লিটন বলেন, আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল সেবক হয়ে গরিব-দুঃখী মানুষকে বিনামূল্যে সেবা দেব। আলোর পাঠশালা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা না পেলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না।