পাহাড়ে শিক্ষার মশাল হাতে লাপ্রাদ ত্রিপুরা

কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা প্রধান শিক্ষক লাপ্রাদ ত্রিপুরা।

বান্দরবান জেলায় ৭টি উপজেলার মধ্যে জেলা সদরে সবচেয়ে কাছের উপজেলা রোয়াংছড়ি। কিন্তু শিক্ষার হার সবচেয়ে কম রোয়াংছড়ি উপজেলা। বিধায় উক্ত উপজেলায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছেন কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা প্রধান শিক্ষক লাপ্রাদ ত্রিপুরা। তিনি ২০১৫ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কচ্ছপতলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালের স্থাপিত। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে পুনরায় স্কুলটি চালু হয়।

লাপ্রাদ ত্রিপুরা সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বশীল ও সফল শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে করোনা ভাইরাসে বিদ্যালয়টি পুনরায় বন্ধ হওয়ার ‍উপক্রম হয়। ওই সময় উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক ও কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে চাকরি ছেড়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কিন্তু বিদ্যালয়ে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে, বিনা বেতনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন লাপ্রাদ ত্রিপুরা (বর্তমান প্রধান শিক্ষক)। তাঁর সঙ্গে একজন সহকারী শিক্ষক ছিলেন অংথোয়াইচিং মারমা (বর্তমান সহকারী শিক্ষক)। তাঁদের ২ জনের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে ছাত্ররা ঝড়ে পড়া থেকে মুক্তি পায়।

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠয়ানে সর্ব বাঁয়ে লাপ্রাত ত্রিপুরা।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিনা বেতনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন লাপ্রাদ ত্রিপুরা। ২০২৩ সালে ‘প্রথম আলো ট্রাস্ট’ বিদ্যালয়টি পরিচালনা দায়িত্ব নেওয়া পর প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালায় যোগদান করেন। কচ্ছপতলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নাম পরিবর্তন করে কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা করা হয়।

যোগদান করার পর থেকে দায়িত্বগুলো সুন্দর ও সফলভাবে পালন করে আসছে তিনি। এখন বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনও পেয়েছে। স্কুলটিকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের স্বপ্ন হলো, এই প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা। বর্তমানে কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালায় ১৩৬ জন শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পড়াশোনা করছে। এখানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ শ্রেণি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়।

বান্দরবানে রোয়াংছড়িতে এই বিদ্যালয় ছাড়াও কুড়িগ্রামে ১টি, রাজশাহীতে ২টি, ভোলায় ১টি, নওগাঁয় ১টি, টেকনাফে ১টি,ও লক্ষ্মীপুরে ১টি করে আটটি স্কুলে মোট ১ হাজার ৬৫০ জন শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পড়াশোনা করছে। সামিট গ্রুপ ও আঞ্জুমান-আজিজ ট্রাস্টের সহযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ সব স্কুল পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।