সহকারী শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা দিল বাবুডাইং আলোর পাঠশালা

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সহকারী শিক্ষক মোসা. উম্মে কুলসুমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সহকারী শিক্ষক মোসা. উম্মে কুলসুমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বই উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদায়ী শিক্ষক ও অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদায়ী শিক্ষককে উপহার দেয়। তাঁকে বিদায় দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদায়ী শিক্ষক মোসা. উম্মে কুলসুমকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বই উপহার দেওয়া হয়। এ সময় স্মৃতি-চারণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল আলম ভোতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী উজ্জামান নূর, সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রাথমিক শাখা) লুইশ মুর্মু, সিনিয়র শিক্ষক মোসা. সোনিয়া খাতুন, নির্মল কোল, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান, মাধব কোল সরেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসরাত জাহান, সুর্মিলা হাসদা, সাকিবুল হাসান। এ সময় বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা নাচ-গান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক (মাধ্যমিক শাখা) শংকর চন্দ্র দাস।

বক্তারা বলেন, প্রায় চার বছরের কর্মজীবনে উম্মে কুলসুম ম্যাডার তাঁর নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে সকলের মন জয় করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে একটি ভরসার জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সুস্পষ্টবাদী। নারী অধিকার নিয়ে জোর দিয়ে কথা বলতেন। মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক শিক্ষাদানে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি যেখানে থাকবেন, সেখানেও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে তিনি কাজ করবেন বলে আশা করি। সকল বক্তারা ওনার ভবিষ্যত মঙ্গল কামনা করেন।

বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা নাচ-গান পরিবেশন করে।

উম্মে কুলসুম বলেন, জীবনের প্রথম পথচলা অমসৃণ হলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে মানুষ ভীত হয়। শিক্ষকতা পেশায় জীবনের প্রথম পথের দিশারী বাবুডাইং আলোর পাঠশালা। এ বিদ্যালয় জীবনের অনেক কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছে হাতে কলমে। দেখতে দেখতে সাড়ে তিন বছর কেটে গেছে এখানে। এখন বিদায় মুহূর্তে, জীবনের সেরা প্রাপ্তিটুকু নিয়ে অশ্রুসিক্ত করে দিল অসংখ্য চক্ষুযুগল। সকলকে খুব মনে পড়বে। ’

উল্লেখ্য, তিনি এ বছর এনটিআরসি-এর মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চর গিরিশ ইউনিয়ন এ এম. মুনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি গত মাসে (মার্চ) এই বিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছেন।