নিজ গ্রামে অ্যাডোলেসেন্স সভার আলো ছড়াচ্ছে প্রিয়াঙ্কা খালকো

গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা খালকো।

প্রিয়াঙ্কা খালকো গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। প্রিয়াঙ্কার বাড়ি অজপাড়া গ্রামে। বাবা প্রেমলাল পুকুর পাহারা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালান। মা আঁকামনি গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা বড়। প্রিয়াঙ্কা ২০২৩ সালে অমৃতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে। তারপর ২০২৪ সালে গুড়িহারী কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে এবং পড়াশোনাতেও বেশ আগ্রহ তার।

গুড়িহারী-কামদেবপুর আলো পাঠশালায় বছরে ৪টি আডোলেসেন্স সভার আয়োজন করা হয়। ২টি মেয়েদের জন্য এবং ২টি ছেলেদের জন্য। প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে অ্যাডোলেসেন্স সভার আয়োজন করা হয়। এ সভায় মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল ও পিরিয়ড সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পিরিয়ডের সময় পুষ্টিকর খাবার, ফলমূল ও বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিদ্যালয় থেকে প্রতি মাসে বিনা মূল্য স্যানিটারি ন্যাপকিনও প্রদান করা হয়।

গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হয়।।

প্রিয়াংকা খালকো বেড়ে উঠেছে পিছিয়ে পড়া এক সমাজে। সেখানে বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে করণীয় নিয়ে সঠিক কোনো পরামর্শ কখনো পায়নি। দাদি নানির কাছে যা শুনেছে তা সম্পূর্ণ আলাদা। তবে অ্যাডোলেসেন্স সভা থেকে সে অনেক কিছু শিখেছে। এখন সে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা থেকে বিনা মূল্যে পাওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে। প্রিয়াংকার মতো গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থী এই ন্যাপকিন পায়। অ্যাডোলেসেন্স সভার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রিয়াঙ্কার মা আকাঁমনি বলেন ‘গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সুনাম আছে। তাই অনেক দূরে হওয়া সত্ত্বেও আমি আমার মেয়েকে ওই স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। আমরা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মানুষ, অনেক কিছু বুঝি না। আমার মেয়ে স্কুল থেকে স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন বিষয়ে শিখে আমাকে বলে। আমরা মেনে চলার চেষ্টা করি এবং আগের থেকে ভালো থাকি, সুস্থ থাকি।’

তাদের গ্রামের বসতি হারাধন খালকো বলেন, 'প্রিয়াঙ্কা খুব ভালো একটা মেয়ে। সেই স্কুল থেকে এসে তার কাকি-দাদিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে জানায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কেও বলতে শুনি। এতে করে পাড়ার দাদি-কাকিরা দেখছি অনেকটাই সচেতন হচ্ছে।'