প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে 'সেবিকা' হতে চায় সম্পা টুডু
রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার প্রত্যন্ত বাবুডাইং গ্রামের কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কিশোরী সম্পা টুডু। অভাব-অনটনের মাঝে বড় হলেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে সে বড় হয়ে একজন 'সেবিকা' (নার্স) হতে চায়। তার স্বপ্ন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া।
সম্পা প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সনাতন টুডু একজন কৃষক এবং মা ময়না মুরমু গৃহিণী। চার বোনের মধ্যে সম্পা তৃতীয়। অভাবের সংসারে বাবা-মাকে বাড়ির কাজের পাশাপাশি ধান রোপণ ও কাটার মতো কঠিন কৃষি কাজেও সাহায্য করে সে। এমনকি নিজের পড়াশোনার খরচের বড় অংশ সে নিজেই জোগাড় করে।
পড়াশোনার পাশাপাশি সম্পা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দারুণ পারদর্শী। নিজস্ব উদ্যোগে বান্ধবীদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক নাচের দলও গড়ে তুলেছে সে, যা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বেশ প্রশংসিত।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘সম্পা একজন অত্যন্ত কর্মঠ ও মনোযোগী ছাত্রী। সহপাঠীদের প্রতি সে খুবই আন্তরিক। সঠিক সুযোগ পেলে সে অনেক দূর যাবে।’
নিজের স্বপ্ন নিয়ে সম্পা জানায়, তাদের গ্রাম থেকে নিকটবর্তী হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় গ্রামের মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পায় না। সে বলে, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই মানুষের এই কষ্ট দেখে বড় হয়েছি। তাই বড় হয়ে সেবিকা হয়ে আমি আমার গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমাদের গ্রামে এই আলোর পাঠশালা না থাকলে আমার পড়াশোনাই হয়তো হতো না। ’
সম্পার মতো শত শত আদিবাসী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে সামিট গ্রুপের সহযোগিতায় দেশজুড়ে এমন আটটি বিদ্যালয় পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।