বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জীবন আলীর বাবার সামান্য আয়ে দুটো সংসার চালাতে খুব কষ্ট হতো। তাই জীবন আলী যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত তখন তাকে এবং তার মাকে বাড়ি রেখে তার বাবা দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকায় চলে যান। এমন পরিস্থিতিতে জীবন আলীর মায়ের কাঁধে সংসারের ভার পড়ে। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যেটুকু রোজগার করত তা দিয়ে কোন রকম করে তাদের সংসার চলতো। জীবনের পড়ালেখার খরচ বহন করতে তার মায়ের খুব কষ্ট হতো। মায়ের কষ্ট দেখে লেখাপড়ার পাশাপাশি কখনো অন্যের চায়ের দোকানে, কখনো অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করত জীবন আলী। ফলে তার পড়ালেখায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। জীবন আলীর মা কোনোভাবে জানতে পারে যে, আলোর পাঠশালাতে পড়াতে কোন খরচ দিতে হয় না। আবার স্কুল থেকে পাওয়া যায় অনেক উপহার।

পানিশাইল গ্রামে যখন আলোর পাঠশালার কমিউনিটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয় তখন জীবন আলীর মা ছুটে এসে উপস্থিত হয় কমিউনিটি মিটিংয়ে। মিটিংয়ে শিক্ষকদের বক্তব্য মনযোগ দিয়ে শুনেন। মিটিং শেষে তার মা আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন জীবন আলীকে ভর্তি করানোর জন্য। পরে আলোর পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দেন জীবনকে।

বর্তমানে জীবন আলী আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির ছাত্র। জীবন আলীর সম্পর্কে আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক মো. নূর আলম বলেন ‘জীবন আলী পড়ালেখায় বেশ মনযোগী। ২০১৮ সালে সে বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিত ছিল। এমনকি জেএসসি পরীক্ষার সময় ভোর রাতে তার বাবা হঠাৎ করে মারা যায়। বাবার মৃত দেহ বাড়ি রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাড়ি ফিরে এসে দুপুরে তার বাবার লাশ দাফন করে। এতো শোকের পরও সে জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৪.০৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।’ জীবন আলীর প্রবল ইচ্ছা লেখাপড়া করার। লেখাপড়া শেষ করে স্কুল শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন তার।

আলোর পাঠশালা কার্যক্রম দেখে জীবন আলী মা বলেন, ‘আলোর পাঠশালা না থাকলে হামার বেটার পড়ালেখা হতো না, মাস্টারেরা মাঝে মধ্যে মোবাইলত কল দিয়ে হামার বেটার পড়ালেখার খোঁজ খবর লিতো। স্কুলত ভর্তি করাতে হামার কোন টাকা-পয়সা লাগিনি। আবার কোন খরচও দিতে হয় না। বরং স্কুলত থেকে হামার বেটা কম্বল দুইটা, মশারি, বৃত্তির টাকা, স্কুল ড্রেস, আবার স্কুল যাওয়া-আসার জন্য সাইকেল, করোনার জন্য দুইবার ত্রাণ আবার ঈদের সময় ঈদের বাজার সদা পাইছি, স্কুলত থেকে মেলাই উপহার পাইছি।’

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন