বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুলের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর আগ্রহের সীমা নেই। নিজে একসময় ভালো ফুটবল এবং ক্রিকেট খেলতেন, তাই তাঁর নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেট দল গঠন করেন। দলের নাম দেন আলোর পাঠশালা ফুটবল দল ও আলোর পাঠশালা ক্রিকেট দল।

গুড়িহারী গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ‘গ্রামে মাঠ নাই তারপরও আলোর পাঠশালা প্রধান শিক্ষক নূর আলম সুমন স্কুলের এই ছোট মাঠে আবার কখনও কখনও জমিতে খেলাধুলার জন্য অস্থায়ী মাঠ তৈরি করে স্কুলের ফুটবল ও ক্রিকেট দলের প্র্যাকটিস করান। কিছু দিন আগে গ্রামের খেলাধুলা একেবারে ওঠে গিয়েছিল কিন্তু সুমন আলোর পাঠশালাতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদানের পর গ্রামে আবার খেলাধুলা শুরু হয়েছে। এ খেলাধুলা দেখে আমাদের বিকেল বেলার অবসর সময়টা ভালই কেটে যায়।’

ফিরোজ মাহমুদ আরও বলেন, ‘স্কুলের বিভিন্ন পালনীয় দিবসে বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস বা ঈদে ‘গ্রাম একাদশ’ ও ‘আলোর পাঠশালা ফুটবল বা ক্রিকেট’ একাদশ এর মধ্যে খেলাধুলার আয়োজন করে থাকে। গ্রামবাসী এই খেলাকে খুবই আনন্দের সাথে উপভোগ করে। শুধু তাই নয় কিছু দিন থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়েও একটি ফুটবল দল তৈরি করেছে। স্কুলের ক্লাস শেষে সুমন কে ছাত্রীদের ফুটবল খেলার প্র্যাকটিস করাতে দেখি। এভাবে এই খেলাধুলার মাধ্যমে ও প্রথম আলো স্কুলের মাধ্যমে এই গ্রামের পরিচিতিও খুব বেড়ে গেছে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে ’।

default-image

উপজেলায় বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন হলে এই আলোর পাঠশালার ফুটবল ও ক্রিকেট দল অংশগ্রহণ করে থাকে। ২০১৮ সালে রামাপাড়া অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, শ্রীমন্তপুর ক্রিকেট টুর্নামেন্টে রানার আপ, ২০১৯ সালে টিকরামপুর অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২০ সালে পানিশাইল ফুটবল টুর্নামেন্টে আলোর পাঠশালা দল চ্যাম্পিয়ন হয়। আর পুরস্কার হিসাবে কখনো ট্রফি, কখনো ছাগল, আবার কখনো মোবাইল ফোন পেয়েছে।

নূর আলমের এ সব কর্মকাণ্ডের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি খেলাধুলা খুব বেশি পছন্দ করি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ও ফুটবল দুটোই খেলতাম এবং এখনও সময় পেলে খেলি। আমি স্বপ্ন দেখতাম ভালো খেলোয়াড় হব। নানা কারণে আমার স্বপ্ন ভেঙে যায়। আমার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে এবং নিজ এলাকার ছেলেমেয়েদের মাঝে নিজের অর্জিত জ্ঞানকে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষিত করার লক্ষে শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নিলাম । প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করলাম প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালাতে। আলোর পাঠশালাতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করার পর বিদ্যালয় থেকে প্রথম জে.এস.সি পরীক্ষায় আলোর পাঠশালার দুই জন শিক্ষার্থী জি.পি.এ ৫ ফলাফল পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। যা বিদ্যালয়ের এবং গুড়িহারী ও কামদেবপুর গ্রামের প্রথম জি.পি. এ ৫ ফলাফল অর্জন করে।

আলোর পাঠশালা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন