'খেউ দিলে খাই, না অইলে উপাস'

বিজ্ঞাপন
default-image

দিনমজুরি করে ছয়জনের সংসারটা এত দিন টেনেছেন রশিদ আলী (৬৫)। কিন্তু করোনার কারণে গত তিন মাস ধরে কাজ নেই। ধারদেনা করে দিন যাচ্ছে। বন্যায় ঘরে টানা আট দিন পানি ছিল। ঘর থেকে পানি নামলেও এখন কাজ নেই, হাতে টাকা নেই, ঘরে খাবার নেই।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আলী গতকাল বৃহস্পতিবার এসেছিলেন প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দেওয়া ত্রাণ নিতে। রশিদ আলীর মতো করোনা ও বন্যায় বিপর্যস্ত ১০০ নারী-পুরুষকে গতকাল প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়। ত্রাণ পাওয়া ব্যক্তিরা দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ফিরোজপুর, ইসলামপুর, রামপুর, বদরপুর ও পুরান বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি লবণ, আধা কেজি মসুরের ডাল, আধা লিটার তেল ও একটি করে সাবান দেওয়া হয়।

গতকাল সকাল থেকেই সুনামগঞ্জে ছিল বৃষ্টি। এর মধ্যেই দেখার হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামে দুপুর ১২টায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়। ত্রাণ বিতরণের উদ্বোধন করেন মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ। উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলপ্রধান হায়দার আলী, শিক্ষক কনক চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি রনজিত দে, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

ত্রাণ পেয়ে ফিরোজপুর গ্রামের সোনামালা বিবি (৬০) বলেন, ‘পোয়ার (ছেলে) কোনো কামকাজ নাই। ঘরও পাঁচজন মানুষ। এক বেলা খাইলে, আরেক বেলা উপাস থাকি। তোমরার চাউল-ডাইল পাইয়া ঘরের সবাইরে নিয়া পেট ভইরা খাইমু।’ পাশে থাকা আজিরুন বেগম (৫৫) নামের আরেক নারী বলেন, ‘ঘরও বন্যার পানি। কামকাজ খরতাম পারি না। খেউ দিলে খাই, না অইলে উপাস। আজকু ইতা (ত্রাণ) পাইয়া বড় খুশি অইলাম।’

প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ পেয়ে কয়েক দিনের চিন্তা দূর হলো জানিয়ে রশিদ আলী বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে করোনাকালে দিন চলছিল। কখনো আধপেটা খেয়ে, কখনো না খেয়ে। বন্যার কারণে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এখন কারও কাছে ধার পাওয়াও কঠিন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন