default-image

বৃষ্টি অধিকারীর বেড়ে ওঠা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার এক চা-বাগানে। একদিকে চা-শ্রমিকের পরিবার, অন্যদিকে সেখানে নারী মানেই যেন অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া। এ রকম একটি এলাকা থেকে উঠে এসে তিনি এখন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়—এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর যখন কীভাবে নিজের খরচ জোগাবেন এমন শঙ্কা যখন তাঁর মনে, তখন মিলেছে এইউডব্লিউ-আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া বৃত্তি’ও। এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন পরিবারের অন্যদের এগিয়ে নেওয়ার।

শুধু বৃষ্টি নন, তাঁর মতো এইউডব্লিউর আরও ৯ শিক্ষার্থী এ বছর পেয়েছেন অদ্বিতীয়া বৃত্তি। তাঁরা সবাই পরিবারের প্রথম নারী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছেছেন। গতকাল বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। শ্রীমঙ্গল শহরের লেবার হাউস মিলনায়তনে হয় এ অনুষ্ঠান। প্রথম আলো ট্রাস্ট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন বৃষ্টি অধিকারী, সোমা গোস্বামী, বন্যা উরাং, প্রিয়াংকা গোয়ালা, বিন্তি তাঁতী, প্রিয়াংকা মাহালী, অঞ্জলী রানী ভৌমিক, মনি মুন্ডা, মনি পাল, আফরিন মৌ। তাঁরা সবাই মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন চা–বাগানের চা–শ্রমিকদের সন্তান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা, কমলগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চা–শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরফদার, বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য, ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ডেপুটি হেড অব সিএসআর খন্দকার নাগিব আনোয়ার, প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা, জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা মো নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

প্রতিবছর এ অনুষ্ঠান চট্টগ্রামে এইউডব্লিউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার অনুষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের এলাকায়।

২০১২ সাল থেকে এইউডব্লিউ-প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘ফার্স্ট ফিমেল ইন দ্য ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ নামে এ বৃত্তি চালু হয়। ট্রান্সকম গ্রুপের সহযোগিতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪২ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি এ শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব নেয়। নতুন নামকরণ করা হয় ‘অদ্বিতীয়া’। আইডিএলসির সহায়তায় এ পর্যন্ত ৩৬ জনকে এ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ট্রান্সকম ও আইডিএলসির সহায়তায় এ পর্যন্ত মোট বৃত্তি পেয়েছেন ৭৮ জন শিক্ষার্থী।

সমাজের অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করে প্রথম আলো ট্রাস্ট। তেমনিভাবে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে কাজ করছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন।

বিজ্ঞাপন
প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন