default-image

সহায়তা ও ভালোবাসা দিয়ে যে কাউকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করা সম্ভব। কারণ, মাদকাসক্তি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এ জন্য দরকার তিনটি বিষয়। এক. আসক্তির বিষয়টি গোপন করা যাবে না। পরিবারের কারও আচরণ সন্দেহজনক হলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে পূর্ণ চিকিৎসা করাতে হবে। দুই. মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা না করে পাশে থাকতে হবে। তিন. পরিবারকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, মাদকাসক্ত ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরও মাদক ছাড়ার ইচ্ছা থাকতে হবে।

প্রথম আলো ট্রাস্টের অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় এই তথ্য জানালেন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক ফাতিমা মারিয়া খান। তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তির পরিবার মনে করে নিরাময়প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মানে সব শেষ। আসলে তা নয়। এখান থেকেই মূলত সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু। নিরাময়কেন্দ্র থেকে ফিরে আসা ব্যক্তির প্রতি পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতিশীল হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে আধা ঘণ্টা প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে এই পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইনে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভার এটি ছিল ১১তম আয়োজন। এ নিয়ে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ১২৬টি মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণের কারণে শেষ ১১টি সভা হয়েছে অনলাইনে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক ফাতিমা মারিয়া খান বলেন, ধূমপান হচ্ছে মাদকের জগতে প্রবেশের দুয়ার। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া সহজ। চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধূমপান ছাড়তে পারেন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি পুনর্বাসনকেন্দ্র অথবা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তির জীবনাচারও বদলাতে হবে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নিজের ইচ্ছাশক্তি যেমন দরকার, তেমনি পরিবারেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

গতকালের সভা সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা।

মন্তব্য করুন