default-image

২০০৪ সালের কথা। বয়স তাঁর ১০। নাম মোহাম্মদ শামসুল হক। জন্মগতভাবে ঠোঁট কাটা। বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার হবে বলে কিশোর বয়সে তাঁকে ভর্তি করানো হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের ব্যবহারে এমনই মুগ্ধ হলেন শামসুল। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে মনে মনে সংকল্প করলেন, ‘পড়াশোনা করতে পারলে ভালোভাবেই করব। ডাক্তার হব একদিন।’

মোহাম্মদ শামসুল হক তার সেই কথা রেখেছেন । ২০১৯ সালে ৫২তম ব্যাচে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এখন বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি সার্জারিতে এফসিপিএস করতে চান তিনি।

শামসুলের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামে। বাবা নুরুল হক বর্গাচাষি। মা গুলনেহার গৃহিণী। পাঁচ বোনের পর শামসুল সবার ছোট। ঠোঁট কাটা থাকায় ছেলে বড় হয়ে ঠিকমতো কথা বলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ডুবে ছিলেন নুরুল-গুলনেহার দম্পতি। ভিটেমাটি ছাড়া তেমন জায়গাজমিও নেই, যা বিক্রি করে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করাবেন। পরের জমিতে বর্গা চাষ করে যা পান, তা দিয়ে কোনোমতে দিন চলে তাঁদের।

বিজ্ঞাপন

২০১০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পেয়ে গেলেন জিপিএ-৫। ব্র্যাক ব্যাংক- প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী বৃত্তি পেলেন তিনি। এরপর সিলেট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকেও একই ফল। ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি হওয়ার আর্থিক সমর্থ্য না থাকায় ভর্তি হলেন সিলেট এমসি কলেজে। পরের বছর ২০১৩ সালে আবারও পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এমবিবিএস পাশ করেন।

মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ‘ঠোঁটটি কাটা বলে অনেকেই আমাকে অবহেলা করত। তবে সেসব অবহেলা আর বিদ্রূপই আমাকে স্বপ্নের পথে হাঁটার জন্য সাহসী করেছে।’

প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন