default-image

পড়াশোনায় বেশ ভালো শাকিল আহমেদ (ছদ্মনাম)। পরিবারের সবার চোখের মণি। ২০০২–০৩ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ভর্তি হন তিনি। কিন্তু স্বপ্নের ক্যাম্পাসে তাঁর স্বপ্ন দূরে চলে যেতে থাকে। ভর্তির পরেই তাঁর ভালোবাসার মানুষ তাঁকে ছেড়ে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ে চলে যায়। বিষন্নতায় পেয়ে বসে শাকিলকে। কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে আসে হলের কয়েকজন বড় ভাই। কষ্ট থেকে মুক্তির ‘বটিকা’ তাঁর হাতে ধরিয়ে দেন। এই বটিকার পোশাকি নাম ক্যানাবিস।

একজনের কষ্ট দূর করতে পারলেও পরিবার, বন্ধুবান্ধবের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ততোদিনে তিনি আসক্ত হয়ে পড়েছেন নেশায়। পরীক্ষায় হতে থাকে খারাপ ফল। ‘আমি সারা দিন নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতাম। আমি কোনোভাবেই পরীক্ষায় পাস করতে পারছিলাম না। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকি।' বলছিলেন শাকিল।

বিজ্ঞাপন

সব বন্ধুরা যখন একে একে পাস করে ভালো চাকরি শুরু করে, তখন বোধোদয় হয় তাঁর। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে একদিন চলে আসেন প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভায়। তারপর পরামর্শ সহায়তা সভার চিকিৎসকের কথামতো চিকিৎসা নেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে প্রতি মাসে ডব্লিউভিএ মিলনায়তনের অনুষ্ঠিত হয় মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা। এ আয়োজনে এসে সহায়তা নিয়ে অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। যদিও করোনার কারণে ওই সভা আপাতত বন্ধ আছে।

শাকিল আহমেদ জানালেন ‘এখন আমি অনেক ভালো আছি। চাকরি করছি। পরিবারের পছন্দমতো বিয়ে করেছি।’

প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন