টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত শনিবার মির্জাপুরের চাকলেশ্বর গ্রামে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত শনিবার মির্জাপুরের চাকলেশ্বর গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

‘আমাগো জমিজমা কিছুই ন্যাই। খালি জানের উপর চলে। খ্যাইটা খ্যাইতাম। কিন্তু কত দিন ধইর‌্যা কামকাজ কিছুই ন্যাই। বয়্যা থ্যাইকা এক দিন প্যাটে কিছু যায়, আবার অন্য দিন উপাস।’ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পোষ্টকামুরী পূর্বপাড়া এলাকার বাকাতন বেগম (৫৫) এভাবেই নিজের অবস্থার কথা বললেন। করোনা ও বন্যায় বিপর্যস্ত তাঁর সংসার ও জীবন। তাঁর স্বামী সারেক আলী বাবুর্চি। সংসারে সদস্য সাতজন। করোনাকালে অনুষ্ঠানের রান্নার কাজ না থাকায় স্বামী বেকার। বাধ্য হয়ে একমাত্র ছেলে রাসেল রিকশা চালানো শুরু করেন। এ সময়ই বন্যার কারণে তাঁদের দুর্যোগ চরম আকার ধারণ করে। রাসেল মির্জাপুরের যেসব রাস্তায় রিকশা চালাতেন, সেগুলো বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ধারদেনা করে কিছু দিন চলেছেন। পানি কমার পর আবার রিকশা চালানো শুরু করলেও ধারদেনা শোধ করতে হচ্ছে। এখনো তাঁদের সংসার চলছে খেয়ে, না খেয়ে।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার সকালে মির্জাপুর প্রথম আলোর বন্ধুসভার সদস্যরা নৌকায় করে গোড়াইল এলাকায় ত্রাণ বিতরণে বের হন। এ সময় বাকাতনের হাতেও একটি ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ পেয়ে বাকাতন বলেন, ‘কয় দিন পর নাতি–নাতনিগুলানরে একটু পরান ভইর‌্যা খাওন দিমু।’

এ বছর বন্যায় মির্জাপুরের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। আট শতাধিক বাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়। দরিদ্র মানুষেরা করোনার পর বন্যার কারণে একেবারেই কর্মহীন হয়ে পড়ে। এখনো মির্জাপুরের অধিকাংশ রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। মানুষকে নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। পানির কারণে গোড়াইল মরা নদীতে নির্মিত সেতুর ওপর বহু মানুষ আশ্রয় নেয়। দরিদ্র ওইসব বানভাসি মানুষের অনেকেই খেয়ে, না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আগে থেকেই তাঁদের খোঁজ করে বন্ধুসভার সদস্যরা প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণসামগ্রী নৌকাযোগে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। ত্রাণের প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, আলু, তেল ও লবণ। ত্রাণ কার্যক্রমে মির্জাপুর প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি হাবেল মৃধা, সাবেক সভাপতি মো. মনজুর কাদেরসহ অন্য বন্ধুরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

গোড়াইল গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বংশাই নদে ভাঙনের কবলে পড়েছে চান মিয়া, নুরুল ইসলাম ও ঝর্ণা বেগমদের বাড়ি। তাঁরা জানান, প্রতিবছরই নদের স্রোতে তাঁদের বাড়ি ভাঙে। বাধ্য হয়ে থাকার ঘর একটু একটু করে সরাতে হয়। এ বছর নদের যে অবস্থা, তাতে অচিরেই ভিটেহারা হতে হবে তাঁদের। এখন তাঁদের এত অভাব যে খাবারই জোটাতে পারছেন না। বাড়ি ভাঙলে কী হবে তা নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন। অন্য স্থানে জমি কিনে ঘর তোলার কথাও ভাবতে পারছেন না, সেই ক্ষমতাই নেই। কেউ আশ্রয়ও দিচ্ছেন না। ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘প্রতিবছরই আমাগো জমি ভাঙতাছে। খ্যাত, ঘরবাড়ি সব যাইতাছে। এইগলা কেউই দ্যাহে না। থাকার ঘরডাও নদীতে পইড়া যাইতেছে।’

বিজ্ঞাপন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

মন্তব্য পড়ুন 0