প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে নদীভাঙা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। গতকাল কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের পাড়ে স্লুইসগেট এলাকায়।
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে নদীভাঙা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। গতকাল কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের পাড়ে স্লুইসগেট এলাকায়। ছবি: প্রথম আলো

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সবজির আবাদ হতো। এত দিন ধরে নিজেদের সবজি আর ধান দিয়েই খাবারের জোগান হয়ে আসছে গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের। তবে এ বছরের ছয় দফা বন্যার হানায় খেতের সব ফসল নষ্ট হয়েছে। কারও ঘরেই আর জমানো কোনো খাবার নেই। করোনা মহামারির কর্মহীনতার মধ্যে এই দুর্যোগ মানুষগুলোকে চরম বিপাকে ফেলেছে।

আর কিছু না থাকলে অন্তত মরিচ দিয়ে পান্তা ভাত চটকে খেয়ে নিতেন বায়োবৃদ্ধ মোমেনা বেওয়া। তবে এখন কুড়িগ্রামেও সেই মরিচের কেজি ২০০ টাকা। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারেন না মোমেনা বেওয়া। সঠিক বয়স জানা গেল না, তবে সবার ধারণা ৮০–এর নিচে নয়। বয়স আর কিছুটা অভাব-অযত্নে আরও বেশি বুড়িয়ে গেছেন বলেই জানালেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দেওয়া ত্রাণ নিতে এসে বেওয়া বলেন, ‘বারে বারে বানোত হামার অবস্থা কাহিল। শ্যাষে এমন পানির টান। ঘরবাড়ি, বসতভিটা ভাসে নিয়া গেইল। আস্তাত পড়ি আছি। গরিব মানুষ ঘর তুলমো তার জাগা নাই। আবাদ শ্যাষ। মানুষের জায়গাত পড়ি আছি।’

২০ অক্টোবর প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আন্ধারীরঝাড়ে স্লুইসগেট এলাকায় বানভাসি ১০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন কুড়িগ্রাম বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক নুসরাত জাহান, সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান, সম্পাদক ঊর্মি আক্তার প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

ত্রাণ পেয়ে ধাউরার কুটি গ্রামের মাইফুল বেগম বলেন, ‘নদ সউগ শ্যাষ করিল। সড়কোত পড়ি আছি। হামাক জাগা দেও, ঘর তুলি দেও।’

কুড়িগ্রাম সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ভূরুঙ্গামারী আন্ধারীরঝাড় ও নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকা। এখানে দুধকুমার ও ফুলকুমার নদের মিলনস্থল। চলতি বছর দফায় দফায় বন্যায় গ্রামগুলোর বিধ্বস্ত অবস্থা। নদের ভাঙন ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছে। লোকজন বাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। জমিগুলো পানির নিচে থেকে থেকে সব ফসল পচে গেছে। চারদিকে বিধ্বস্ত অবস্থা।

দামাল গ্রামের দিনমজুর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার বন্যাত বাড়িত আছিলাম। পরেরবার থাকপার পাই নাই। নুরানি মাদ্রাসায় আসি উঠছি। পানি কমি যাওয়ার পর বাড়ি গেইলোং তা ভাঙন শুরু হইলো। হামরা কোন পাকে যাই, মরণদশা।’

মন্তব্য পড়ুন 0