প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ঢাকার দোহার উপজেলার চরমাহমুদপুর গ্রামে বর্ন্যাতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ঢাকার দোহার উপজেলার চরমাহমুদপুর গ্রামে বর্ন্যাতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে ছবি: প্রথম আলো

পৈতৃক সূত্রে পাওয়া আধা বিঘা জমিই ছিল সুরুজ মিয়ার (৬২) শেষ সম্বল। গত বছরের নদীভাঙনে সেই জমির প্রায় পুরোটাই হারান ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরকুসাই গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া। এখন কেবল পাঁচ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। সেখানেই সবজি চাষ করে রোজগারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে এবারের বন্যায় সেটাও বন্ধ। করোনাকালে এলাকায় কোনো কাজও নেই। দুই মাস ধরে ‘ধারকর্জ’ করেই সংসার চালাচ্ছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দেওয়া ত্রাণ পেয়ে সুরুজ মিয়া বলেন, ‘তিন পোলা, দুই মাইয়া আর হ্যাগো মা নিয়া সংসার আমার। অহন খাওনই দিবার পারি না। দুই মাস ধইরা মাইনষেত্তে ধারকর্জ কইরা চলতাছি। অ্যামনে কী আর জীবন চলে!’

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ত্রাণ বিতরণ করেন প্রথম আলো বন্ধুসভা কেরানীগঞ্জের বন্ধুরা। পদ্মার তীরবর্তী চরমাহমুদপুর, নারায়ণপুর, চরকুসাই, শ্রীকৃষ্ণপুরসহ কয়েকটি গ্রামের ১০০টি বানভাসি পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, প্রথম আলো বন্ধুসভা কেরানীগঞ্জ শাখার সভাপতি সায়মন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।

দোহারের সহকারী কমিশনার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘সরকারের পাশপাশি সমাজে যাঁরা বিত্তবান, তাঁদেরও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম আলো সারা দেশে মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে আসছে। দোহারের বন্যার্ত মানুষের খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই।’

পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মধ্য জুলাই থেকে দোহার উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় সাত হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। কর্মহীন হয়ে পড়ে উপজেলার ইউনিয়নগুলোর বেশির ভাগ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরমাহমুদপুর গ্রামের অন্ধ আকলিমা বেগমও (৬০) এসেছিলেন প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ নিতে। ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মায় আমগো জমিজমা, ঘরবাড়ি—সব খাইছে। পোলার কাম নাই। জমিতে যে ফসল বুনুম, সেই জায়গা গুলান এহনও ডুইবা রইছে। আমি জন্ম থিকাই অন্ধ। স্বামী মরছে ১৫ বছর আগে। মানুষের কাছে হাত পাইত্যা আমার জীবন চলে। পোলাপাইনগুলান যা কামাই করত, করোনা আর বইন্যায় সব বন্ধ। আপনাগো চাল, ডাল ও আলু দিয়া পুলাপাইনসহ কয়দিন খাইতে পারুম।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

মন্তব্য পড়ুন 0