default-image

আমি যে আজকের আমি হতে পেরেছি তার পেছনে আছে প্রথম আলোর অবদান। আমি যখন স্কুলে পরতাম, আমার ট্যালেন্ট দেখে সবাই পছন্দ করত। এটা আমাকে পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে। এসএসসি পরীক্ষার সময় বই খাতা কিনব সেই অবস্থা ছিল না। মা-বাবা দিতে পারবে না, এটা আমি জানতাম। তাই শিক্ষকদের জানাতাম, পরীক্ষার সময় ফরম-পূরণের সময় শিক্ষকেরা সহযোগিতা করেছেন।

আমিও তাদের সম্মান রক্ষা করেছি। এসএসসিতে আমিই প্রথম আমার স্কুল থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করি। শিক্ষকেরাসহ সবাই অনেক খুশি হন। কিন্তু আমার মনে তখন কলেজে ভর্তির টেনশন। তখন প্রথম আলোর তারাগঞ্জ প্রতিনিধি আমাকে নিয়ে সংবাদ করেন। তারপর ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পাই। ঢাকায় আমাদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা শুনে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হই। তখন মনে অনেক সাহস পাই। নতুন করে শক্তি পাই যে, আমিও পারব। কথাগুলো বলছিলেন অদম্য মেধাবী বর্ষা রানী বীণা।

বিজ্ঞাপন
default-image

বর্ষার বাবা ভ্যান চালাতেন, কিন্তু বয়স বেশি হওয়ায় আর চালাতে পারতেন না। ফলে মাকে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতে হতো। কিন্তু মায়ের আয়ে সংসার চলত না। তাই মায়ের সঙ্গে দিনমজুরি করতে হতো বর্ষাকেও। এতকিছুর পরও থেমে যাননি বর্ষা। কঠোর পরিশ্রম করে ২০১০ সালে মাধ্যমিক ও ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পান। নির্বাচিত হন ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী হিসেবে।

উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে পান ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিলের শিক্ষাবৃত্তি। ২০১৮ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করেন। স্নাতকোত্তরও শেষ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগ থেকে। বর্তমানে তিনি তারাগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন। ধরেছেন সংসারের হাল। মায়ের হাতকে করেছেন শক্তিশালী। একই সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে। উল্লেখ্য, বর্ষাই তাঁর গ্রামের প্রথম চাকরিজীবী যিনি সরকারি চাকরি করছেন।

কেন শিক্ষক হলেন জানতে চাইলে বর্ষা বলেন, ‘২০১০ সালে যখন ঢাকায় আমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়, তখন মঞ্চে সবার সমানে বলেছিলাম আমি শিক্ষক হব। কারণ একজন শিক্ষকই পারেন সবার মধ্যে আলো ছড়াতে। আমিও আমার গ্রামে প্রকৃত শিক্ষার আলো ছড়াতে চাই।’

বর্ষা নিজেকে কোথায় দেখতে চান জানতে চাইলে বলেন, ‘স্বপ্নের কোন সীমা নেই। তবে ইচ্ছা থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। আমি সে লক্ষ্যেই কাজ করছি, আরও পড়াশোনা করছি। বিসিএস দিয়ে বড় কর্মকর্তা হয়ে গ্রামের জন্য তথা দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আছে। তবে আমার স্বপ্ন পূরণে পথে প্রধান পাথেও হয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট ও ব্র্যাক ব্যাংক। আমি প্রথম আলো ট্রাস্ট ও ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে কৃতজ্ঞ।’

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার অদম্য মেধাবী বর্ষা রানী বীণা সাহস নিয়ে প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। তাঁর জীবনের গল্প উঠে আসে ৯ মার্চ ২০২১ প্রথম আলো ট্রাস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘অদম্য মেধাবীর সঙ্গে’ অনলাইন অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানটি একযোগে প্রচার করা হয় প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেল, প্রথম আলোর ফেসবুক, প্রথম আলো এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের ফেসবুক থেকে। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা।

বিজ্ঞাপন
প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন