প্রিয়জন মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে কী করবেন

বিজ্ঞাপন

প্রিয়জন মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে ৩টি বিষয় মেনে চলতে হবে

এক. আসক্তির বিষয়টি গোপন করা যাবে না। সন্তান বা পরিবারের সদস্যের আচরণ সন্দেহজনক হলে দ্রুত মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসতে হবে ও পূর্ণ চিকিৎসা করাতে হবে।

দুই. মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা না করে পাশে থাকতে হবে।

তিন. পরিবারকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, আসক্ত ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরও মাদক ছাড়ার ইচ্ছা থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত উদ্যেগ না থাকলে মাদক থেকে নিরাময় সহজ হয়।

  • যারা জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসতে চায়, তাদের নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এমন নয় যে আসক্ত ব্যক্তিরা কখনোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন নিজের প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহযোগিতা। কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিত্সা।
  • ডিটক্সিফিকেশন, প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ হ্রাস, ওষুধ, সহযোগী মানসিক সমস্যার চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, সাইকোথেরাপিসহ বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবায় আসক্ত ব্যক্তিদের সাফল্যেও সঙ্গে চিকিৎসা করা সম্ভব
  • এ জন্য মাদকাসক্তি বিশেষজ্ঞ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাইকোলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, পরিবার, স্বজন শিক্ষক, আর প্রকৃত ভালো বন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
  • হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে ইয়াবায় আসক্তরা সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে। 

মাদকাসক্তির পরিণতি

তাৎক্ষণিক ক্ষতি: আত্মবিশ্বাস বেশি মনে হওয়া, মনে আনন্দের ভাব, সময় ও স্থান সম্পর্কে ভ্রান্ত অনুভূতি,স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া, ভ্রান্ত বিশ্বাস

দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি: শারীরিক ক্ষতি ,মানসিক সমস্যা, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়

সত্য গল্প 

রাকেশ ভৌমিক ও মাহমুদুর রহমান—দুজনের জীবনের গল্পে বেশ মিল। মাদকের চোরাবালি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দুজনই এখন সুস্থজীবন যাপন করছেন। প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হয়ে তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন নতুন জীবনের সন্ধান।

রাকেশের ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় ভূমিকা ছিল তাঁর মা নিলু ভৌমিকের। রাকেশ বলেন, ‘মা খুব করে চাইতেন আমি সুস্থ হই। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে তিনি প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠানে যাওয়া শুরু করেন। প্রতি মাসে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ শুনতেন।’ মা নিলু ভৌমিক ২০১৬ সালের শুরুতে চলে গেছেন না–ফেরার দেশে।

রাকেশ সাড়ে ছয় মাস চিকিৎসা নেন মাদকাসক্ত মানুষের জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্র ‘আপন’-এ। তারপর দুই মাস সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আয়োজনের নিয়মিত আয়োজন—পরামর্শ সহায়তার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন তিনি। একসময় পরামর্শ নিতে আসা অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিতে শুরু করেন। এখন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

‘মাদককে না বলো’ স্লোগানে প্রথম আলো ট্রাস্ট এ পর্যন্ত ৭৫টি মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে যাঁরা মাদকের অন্ধকার জীবন থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁদেরই একজন মাহমুদুর রহমান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী প্রায় ১০ বছর ছিলেন মাদকের সংস্পর্শে। কৌতূহলের বশে শুরু করলেও একসময় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েন মাদকের বেড়াজালে।

নেশার চোরাস্রোতে তলিয়ে যেতে থাকা সজীবকে টেনে তুলেছেন তাঁর মা শাহীনুর সুলতানা। সজীব বলেন, ‘আম্মা প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি মাসের মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তার খোঁজ পেয়ে সেখানে যান। সেখানে ডা. মোহিত কামালের সঙ্গে মায়ের কথা হয়। স্যারের পরামর্শে আমার চিকিৎসা শুরু হয়।’ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিয়ে চার বছর ধরে সুস্থজীবন যাপন করছেন তিনি। এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

নিরাময়ের উপায় নিরাময়ের জন্য যেখানে যাবেন

পরামর্শ সহায়তা

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নিয়মিত কার্যক্রম পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠান। প্রতি মাসে সাধারণত ঢাকার ধানমন্ডি ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে এ আসর অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও পরামর্শ সহায়তা হয়ে থাকে। এ পর্যন্ত ৯৯টি মাদক পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদকাসক্ত তরুণ, মাদকাসক্তের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও মাদকমুক্ত তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত থাকেন। মাদকাসক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন রকমের সমস্যা তুলে ধরেন। এসব সমস্যার সমাধান ও প্রশ্নের উত্তর দেন মনোরোগ চিকিৎসক ও পরামর্শকেরা।

টেলিফোনে পরামর্শ

প্রথম আলো কার্যালয়ের একটি নির্ধারিত টেলিফোন নম্বরে মাসে একবার মাদক নিরাময় বিষয়ে পরামর্শ দেন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। সারা দেশ থেকে ফোনের মাধ্যমে পরামর্শ পেয়ে থাকেন।

সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

  • কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ৪৪১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা।
  • চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র১১৫ পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।
  • রাজশাহী আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র২০৪/২ উপশহর ক্যান্টনমেন্ট, রাজশাহী।
  • খুলনা আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ২ কেডিএ অ্যাভিনিউ, ময়লাপোতার মোড়, খুলনা।
  • জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
  • মানসিক রোগ বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা

খরচ কেমন

কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

৪৪১, উত্তর বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮।

ফোন ৮৮৭০৬২০, ৮৮৭০৬১৯, মোবাইল ০১৭১৩১১১১৩০

১০ টাকায় টিকিট ক্রয় ও রেজিস্ট্রেশন করে মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

রোগী ও অভিভাবকদের ভর্তি পূর্ব (প্রি-অ্যাডমিশন) নিরূপণ ও মূল্যায়ন

বহি বিভাগ (প্রতি কর্ম দিবসে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা) অন্ত বিভাগ (পুরুষ বেড-৪০টি, শিশু বেড- ১০টি)

ফলো-আপ মিটিং

ফ্যামিলি মিটিং (সপ্তাহের প্রতি – বুধবার সকাল ১০টা)

বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট কিছু প্যাথলজিকাল পরীক্ষা

মাদকাসক্ত রোগীদের বিশেষায়িত সেবা

সমন্বিত চিকিৎসা (মেডিকেল, সাইকোলজিক্যাল, সোশ্যাল ও স্প্রিচুয়াল)

বহির্বিভাগে টিকিট কেটে প্রথমে চিকিৎসক মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দিয়ে ভর্তির সম্ভাব্য তারিখ দেবেন।  ভর্তির পূর্বে কমপক্ষে ২ টি ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং সেশন এবং ১ টি ফ্যামিলি মিটিং অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।

 সিট ভাড়া ও নিয়ম কানুন : বিনা ভাড়া (নন-পেয়িং বেড): ৮০০টাকা (২৮ দিনের জন্য)এবং নিরাপত্তা জামানত ৫০০/= (ভর্তি কালীন সময়ে রোগী কর্তৃক কোন ক্ষতি না হলে ফেরতযোগ্য)

ভাড়া বেড (পেয়িং বেড): ২৮০০টাকা (২৮ দিনের জন্য)এবং নিরাপত্তা জামানত ৫০০/= (ভর্তি কালীন সময়ে রোগী কর্তৃক কোন ক্ষতি না হলে ফেরতযোগ্য)

ভর্তির দিন রোগী এবং আইনগত অভিভাবক এর ভোটার আইডি কার্ড এবং রোগীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি নিয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন