প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে মানিকগঞ্জের বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। গতকাল হরিরামপুর উপজেলার ভেলাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে মানিকগঞ্জের বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। গতকাল হরিরামপুর উপজেলার ভেলাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েছবি: প্রথম আলো

শরীফা বেগমের (৫২) স্বামী মারা গেছেন প্রায় দুই যুগ আগে। তাঁর মৃত্যুর পর ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েন তিনি। এরই মধ্যে শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও নদীতে ভেঙে যায়। চরম অসহায়ত্ব নিয়ে আশ্রয় নেন এক সড়কের পাশে খুপরিঘরে। এখনো সেখানেই সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনো রকমে জীবন কাটাচ্ছেন শরীফা।

গতকাল শনিবার প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ছয় গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়। তা হাতে পেয়ে কাণ্ঠাপাড়া গ্রামের শরীফা বেগম বলেন, ‘ছোট পোলাপান রাইখ্যা স্বামীডা মারা গ্যাছে। বহু কষ্ট কইরা পোলাপান বড় করচি, তাগো বিয়েশাদি দিচি। নদীত সব শেষ কইরা দিচে। এহন রাস্তার ধারে থাহি। মাইনসের বাড়ি কাম-কাইজ কইরা নাতি-নাতনি নিয়া খাইয়া-না খাইয়া তাহি। আপনাগো এই তেরান পাইয়া উপকার হইল।’

জেলা সদর থেকে হরিরামপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে পদ্মার ভাঙনকবলিত হারুকান্দি ইউনিয়ন। বছর-বছর নদীভাঙনে হারুকান্দিসহ উপজেলার ছয় ইউনিয়নের অনেকটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেছেন অনেকেই। অনেক পরিবার অন্যের জমি ভাড়া করে বা সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে ঘর তুলে বসবাস করছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই দুই দফায় বন্যায় এই উপজেলার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখনো নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামেনি। পতিত পড়ে আছে অনেক কৃষিজমি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল এই উপজেলার হারুকান্দি ইউনিয়নের ভেলাবাদ ও দক্ষিণ চাঁদপুর, বলড়া ইউনিয়নের কাণ্ঠাপাড়া, কুইস্তারা ও দানিস্তপুর এবং বয়রা ইউনিয়নের লেছড়াগঞ্জ গ্রামের ১০০ বন্যার্ত পরিবারকে ওই ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভেলাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় ত্রাণ বিতরণের।

ত্রাণ নিতে আসা অসহায় মানুষগুলোর একজন ভেলাবাদ গ্রামের ঝন্টু সরকার (৫৫)। পেশায় রাজমিস্ত্রি ঝন্টুর বছরখানেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে যায়।

এরপর থেকে একরকম কর্মহীন। দুর্ঘটনার পর থেকে ঝন্টুর পরিবার এমনিতেই কষ্টে দিন পার করছিল, এখন বন্যা ও করোনায় আরও অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়েও এত দিন কাজ করছি। করোনা ও বন্যার পর থেকে সংসারই চলছে না। এক বেলা আহার জুটলে আরেক বেলা না খাইয়্যা তাহি।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

মন্তব্য পড়ুন 0