default-image

করোনায় কর্মহীন আর পাহাড়ি ঢলের বন্যায় ঘরছাড়া হতে হয় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের পেয়ারা বেগমকে (৫৫)। গত মে মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত ধলাই নদ হয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি তিনবার কূল উপচে ঘরবাড়ি, খেত, রাস্তা—সবই ডুবিয়েছে। এখন পানি কমলেও বানভাসি মানুষের খাবারের সংকট কমেনি।

গতকাল বুধবার কোম্পানীগঞ্জের বানভাসি ১০০টি পরিবারকে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ পেয়ে পেয়ারা বেগম বলেন, ‘কুড়ি দিনের উপরে ঘরো হামায়তাম পারছি না। ইশকুলে আছলাম। আগে মাটি কাটার কাম করতাম। অহন কামকাজ নাই, ধারকর্জ করি চলি। আজকুর সাহায্যগুন পাওয়ায় ই-কদিন ধারকর্জ ছাড়া চলমু।’

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেখানে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সুন্দর আলী, বন্ধুসভা সিলেটের সভাপতি তামান্না ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ রনি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। এর আগে ধলাই নদের অববাহিকা এলাকার বন্যাকবলিত গ্রামগুলো থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হয়।

বৃষ্টিপ্রবণ ভারতের চেরাপুঞ্জির পাদদেশ থেকে নেমে আসা একটি ছড়া ধলাই নদের সঙ্গে মিশেছে। বর্ষাকালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ওই ছড়া দিয়ে ধলাই নদে পাহাড়ি ঢল নামে। করোনাকালে তিন দফায় ঢলে ভেসেছে ধলাইপারের মানুষেরা।

কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এতিম মিয়া কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বন্যায় প্রায় এক মাসেই তাঁর মজুত খাবার শেষ জানিয়ে এতিম মিয়া বলেন, ‘নলতল বাইরার (দীর্ঘস্থায়ী বন্যা) মইধ্যে আছলাম। ঘরও বইয়া বইয়া খাইছি, উগারের (মাচা) ধানও শেষ। সামনের দিন নিয়া বড় পেরেশানির মইধ্যে আছি।’

নবাগি গ্রামের সাঈদুর রহমান জন্ম প্রতিবন্ধী। সাত বছরের ছেলে হুইলচেয়ারে করে তাঁকে নিয়ে ত্রাণসহায়তা নিতে এসেছে। মানুষের সহায়তায় এত দিন সংসার চালিয়েছেন। করোনাকালে সব বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে খেয়ে, না খেয়ে দিন যাচ্ছে তাঁর।

স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে আদর্শ গ্রামের পাথরশ্রমিক আক্কাস আলীর সংসার। করোনায় কাজ বন্ধ, এরপর বন্যা। আক্কাস আলী বলেন, ‘কামকাজ ছাড়া আমরা আর চলতে পাররাম না।’

বন্যার পানি নেমে গেলেও ধলাই নদে পাহাড়ি ঢলের তোড় এখনো আছে। এতে নদে ভাঙন দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী এলাকার জনবসতি ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে জানিয়েছেন আদর্শ গ্রামের আমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘ঘরো তিনবার পানি আইছে, তিনবারও ঘরো থাকা গেছে না। বাড়িঘর বাক্কা ভাঙ্গিলাইছে। ভাঙ্গা ঠিক করতাম, না সংসার চালাইতাম, ওউ লইয়া চিন্তাত বেশি আমরা।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন