রানা প্লাজা ধস

ট্রাস্টের সহায়তায় চলছে ২০ জনের পড়ালেখা

বিজ্ঞাপন
default-image

সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার অষ্টম তলায় নিউ ওয়েব স্টাইল নামের একটি পোশাক কারখানায় প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন ইউসুফ রানা। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মোটামুটিভাবে চলত তাঁর সংসার। ভবনধসের ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় ইউসুফ রানার জীবন। এরপর স্কুলপড়ুয়া ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন ইউসুফের স্ত্রী হোসনে আরা। স্বামীর কর্মস্থল থেকে একটি পয়সা সাহায্যও তিনি পাননি। এমন কোনো সঞ্চয়ও ইউসুফ রানার ছিল না, যা দিয়ে বাচ্চাদের পড়ালেখা ও সংসার খরচ চালিয়ে নিতে পারেন হোসনে আরা।

এমন বিপদের সময় পরিবারটির সাহায্যে এগিয়ে আসে মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গঠিত এ তহবিল থেকে গত পাঁচ বছরে ইউসুফ রানা-হোসনে আরা দম্পতির বড় ছেলে রেদোয়ান আহমদের পড়ালেখার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। স্নাতকোত্তর পর্যন্ত এই অর্থ পাবে রেদোয়ান।

সহায়তা তহবিলের অর্থ, মায়ের কাপড় সেলাইয়ের উপার্জন ও নিজের চেষ্টায় এখন চলছে রেদোয়ানের পড়ালেখা। ২০১৩ সালে নবম শ্রেণি পড়ুয়া রেদোয়ান আজ এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একটা ভালো চাকরি পাওয়া এবং পরিবারের হাল ধরা। রেদোয়ান বলে, ‘অনেক কষ্ট করে এত দূর পড়েছি। সামনে যত কষ্টই হোক, পড়ালেখা চালিয়ে যাব।’

রেদোয়ানের মতো এমন ২০ জনের পড়ালেখা চলছে প্রথম আলো ট্রাস্টের সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে। এই ২০ জনের প্রত্যেকের বাবা অথবা মা রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৩ সালে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পরপরই প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গঠন করা হয় মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল। উদ্দেশ্য, রেদোয়ানের মতো অসহায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখায় আর্থিক সাহায্য দেওয়া। এ জন্য তহবিলে জমা পড়া ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) হিসেবে জমা করা হয়। এই আমানত থেকে পাওয়া লভ্যাংশ দিয়ে ২০ জনের পড়ালেখার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

তহবিল থেকে অর্থ সাহায্য পাওয়াদের পড়ালেখা কেমন চলছে, জানতে সম্প্রতি কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদেরই একজন রাইমা জাহান। সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শেষ বর্ষে পড়ালেখা করছেন তিনি।

রাইমা জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে যখন বাবা মারা যান, সে বছরই এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বছর আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। একসময় মনে হয়েছিল, আর হয়তো পড়ালেখাই করতে পারব না। সে সময় মেরিল-প্রথম আলো তহবিলের সাহায্য না পেলে আজ এত দূর আসতে পারতাম না। আমার পড়ালেখার ৯০ শতাংশ খরচ ট্রাস্টের অর্থে হয়েছে। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এই তহবিলের সহায়তা পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী সুমনা হক। মা লাভলী আক্তার রানা প্লাজার একটি কারখানায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন। ২০১৩ সালে মাকে হারানোর সময় নবম শ্রেণিতে পড়ত সুমনা। মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তখন কোনো কূলকিনারা করতে পারছিলেন না বাবা সুমন মিয়া। আর সে সময়েই মেয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন