default-image

জয়ন্ত কোল সরেন। ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কোল সম্প্রদায়ের সন্তান। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর স্বপ্ন, তিনি শিক্ষক হবেন। শিক্ষক হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের শিশুদের পড়ালেখায় এগিয়ে নিতে কাজ করবেন। গরু-ছাগল চরানোর জায়গায় শিশুদের পড়াশোনাতে সময় বেশি দেওয়ার জন্য কাজ করবেন। পাশাপাশি নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষায় শিশুদের নিয়ে এগিয়ে যাবে। তাঁর এ স্বপ্ন সৃষ্টি হয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালার কল্যাণে।

তিনি বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের ব্যাচের এসএসসি পরীক্ষা পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি বাবুডাইং গ্রামের কোল সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বরেন্দ্রভূমির গহিনে অবস্থিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালাটি প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৭ সালে। তখন নাম ছিল বাবুডাইং আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাঠদান করা হত প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। ২০১০ সাল থেকে প্রথম আলো ট্রাস্ট বিদ্যালয়টি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। ২০১৬ সাল থেকে সেখানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান শুরু করা হয়। ফলে এখন বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। নাম দেওয়া হয় বাবুডাইং আলোর পাঠশালা।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই এলাকাসহ আশেপাশের গ্রামগুলোর শিশুদের শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করে আসছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ওই সময় থেকে নানা দূর্যোগ ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এসে এখানে পাঠদান করছেন। এ বিদ্যালয়ে কোল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাবুডাইং বনের পাশে আশ্রয় নেয়া পদ্মা নদীভাঙ্গণ কবলিত পরিবারের সন্তান মিলিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩১৭ জন। প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১১টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে পাঠদানসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক।

প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন