default-image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্রভূমির গহিন গ্রাম বাবুডাইংয়ের কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভুটু কিসকু ও তাঁর স্ত্রী ফুলমনি সরেনকে আজ সোমবার প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল দেওয়া হয়েছে। বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালার মাঠে ছয়টি গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও পদ্মার ভাঙনে বাবুডাইং বনের পাশে আশ্রয় নেওয়া চরের ১৮০ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তলাগোয়া গ্রাম বাবুডাইং। প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে আগে গিয়ে কম্বল নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন বন্ধুসভার সদস্যরা। কম্বল পেয়ে ফুলমনি সরেন বলেন, ‘তুমরা হামাদের আদিবাসী গিদরিগুলাকে (শিশুদের) পড়হাছিস। ফের হামাদের ভালোবাসিয়ে কম্বলও দিলি। খুব ভালো লাগিছে। ভোগবান তুমরাকেও ভালোবাসিবে।’

বাবুডাইংয়ের অল্প দূরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার টিলা ও বনের পাশে খাসজমিতে বাস করা চরের মানুষ মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজারুদ্দিন (৬৮) বলেন, ‘আমাদের বিধবা, প্রতিবন্ধী নারী ও গরিব মানুষেরা আজ অনেকেই কম্বল পেলেন। এই কনকনে শীতে তাঁরা একটু আরামে ঘুমাতে পারবেন। মন থেকে তাঁরা দোয়া করবেন। প্রথম আলো ট্রাস্ট ও বন্ধুসভার ছেলেমেয়েদের প্রতি অনেক ভালোবাসা জানাই।’

বিজ্ঞাপন

লাঠি হাতে কম্বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে মনের আনন্দে কথা বলতে বলতে বাড়ি ফিরছিলেন বাবুডাইং গ্রামের চার প্রবীণ। তাঁদের মধ্যে গান্ধু হাসদাকে বয়স জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বলেন, ‘অত কহিতে পারব না। লিলাবতির (নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র) লড়াহাইয়ের সময় তিন বচ্ছরের ছিনু। মায়ের কোলে চড়হ্যা ইন্ডিয়া পালিয়্যাছি।’ এ সময় বাবুয়া হাসদা বলেন, ‘হামি অর থাকিই ১২ বছরের বড় আছি। তোরা গাঁয়ের বুড়হাগালাকে কম্বল দিয়্যা খুব ভালো করিলি। করুনাতে (করোনাকালে) হামরাকে খাবারও দিলি। তোরা হামরাকে খুব ভালোবাসিয়েছিস। তোদের ভালো হোইবে।’

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রাম্য মোড়ল সুরেন কোল টুডু, কার্তিক কোল টুডু, মাধব কোল সরেন, দেবেন হাসদা, মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজারুদ্দিন, আতাউর রহমান, সাইদুর রহমান, নারী সংগঠন জাগো নারী বহ্নিশিখার আহ্বায়ক ফারুকা বেগম, সমাজসেবী আমিনুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মাখন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, প্রথম আলো বন্ধুসভা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সভাপতি ওজিফা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মিলেনিয়াম প্রমুখ। সেখান থেকে ফিরে বন্ধুসভার বন্ধুরা নিজেদের বাড়ির আশপাশের আরও ৭০ জন শীতার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল বিতরণ করেন। সব মিলিয়ে ২৫০টি পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।

প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন