default-image

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ নদীভাঙনে অন্তত ১৫ হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পরিবারগুলো। ফসলি জমি, সড়কের পাশে জমি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এর মধ্যেই চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি থেকে বন্যা হানা দেয় ওই ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের এলাকায়। করোনাকালের উপার্জনহীনতা তাঁদের বিপর্যয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিবারগুলো অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

নড়িয়ার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মালঞ্চা বেগম (৬০)। দুই দফা নদীভাঙনে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হারিয়েছেন পদ্মায়। আশ্রয় নিয়েছেন পাঠান বাড়ি এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর তীরে। স্বামী আলী আহম্মদ ব্যাপারী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। বন্যার পানিতে গ্রামের সঙ্গে ঘরও তলিয়ে যায় মালঞ্চার। গতকাল প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাগো সোনার সংসার আছিল। গোলায় ধান, গোয়ালে গরু আছিল। পদ্মা সব কাইড়া নিছে। এহন বানের লাইগা পোলাডার কাম বন্ধ। দুইবার সরকারি সাহায্য পাইছিলাম। তাইন দিয়া কিছুদিন চলছি। আমরা তাকায়া থাকি, কহন আপনেগো মতো কেউ আইব ত্রাণ দিতে।’

বিজ্ঞাপন

বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত নড়িয়ার পাঠানবাড়ি ও চরনড়িয়া গ্রামের ১০০ পরিবারের মধ্যে গত শুক্রবার প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। পরিবারগুলোকে দেওয়া ত্রাণের প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, তেল, লবণ ও আলু। ত্রাণ কার্যক্রমে প্রথম আলোর শরীয়তপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সোনিয়া আক্তারসহ অন্যরা অংশ নেন।

নড়িয়ার চেরাগ আলী ব্যাপারীকান্দি গ্রামে বাড়ি ছিল অমর্ত্য বেগমের (৪৫)। স্বামী ইসমাইল ব্যাপারী মারা যাওয়ার পরে নিজেদের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবন ধারণ করছিলেন। দুই বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তাঁর কৃষিজমি ও বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। আশ্রয় নেন পাঠানবাড়ি এলাকায়। তিনি বলেন, ‘পদ্মা আমাগো নিঃস্ব করছে। বানের কালে কাম নাই, দুই মাস ধইরা ঘরে বহা। খাওনই জুটাইতে পারতাছি না। সরকারি যে সাহায্য পাইছলাম, তা–ও শেষ।’

জুনের মাঝামাঝি থেকে নড়িয়ার চর এলাকাগুলো বন্যায় ডুবতে শুরু করে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বন্যার প্রভাব ছিল। পানি নামলেও জীবনযাত্রা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তলিয়ে যাওয়া ফসলের খেতে এখনো নতুন করে আবাদ শুরু হয়নি।

কালিকাপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা সামাদ ঢালী দুদফা নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। করতে হয়েছে পেশা বদল। দুই বছর যাবৎ কৃষিশ্রমিকের কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

বন্যায় কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সামাদ ঢালী বেকার হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টের জীবন পার করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নদীভাঙনে সব শ্যাষ। দুই বছর ধইরা খুব কষ্ট কইরা চলতাছি। অন্যের জমিতে থাকি। কাম নাই, খাওন নাই, পার তলে মাটি নাই।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

মন্তব্য পড়ুন 0