default-image

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন - প্রথম আলো ‘ফার্স্ট ফিমেল ইন দ্য ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’পাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জুম অ্যাপে আড্ডা হয়ে গেল। প্রথম আলো ট্রাস্টের সাথে হয় এই আড্ডা। দেশের সীমানা পেরিয়ে অনেকেই বিশ্বের সেরা স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করছেন, কেউ আবার পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই চাকরি করছেন। কে কোথায় আছেন, কি করছেন এ ধরনের নানা বিষয় ওঠে আসে গতকালকের আড্ডায়।

ফারহানা নাজ ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের ‘সিভেনিং স্কলারশিপ’ পেয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিডসে ওয়াটার স্যানিটেশন অ্যান্ড হেলথে (ওয়াশ ইঞ্জিনিয়ারিং) মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যে থেকেই যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। দেশে ফিরে এই সেক্টরে কাজ করার আগ্রহ নাজের।

সিনথিয়া খন্দকার ঊর্মি বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। তিনি ২০১৭ সালে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে ঐ বছরই মাস্টার্স পর্যায়ে স্কলারশিপ পেয়ে যান ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল সাইন্সে। ২০১৯ সালে মাস্টার্স শেষ করে প্যারিসে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরির অফার পান। সংস্থাটির নাম ‘ফেডারেশন অব বিজনেস ইনকিউবেটর’। এই সংস্থায় তিনি বর্তমানে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। দেখাশোনা করছেন ইউরোপিয়ান প্রজেক্টের তিনটি প্রকল্প।

নূর-ই-জান্নাত থাইল্যান্ড থেকে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান।

সাদিয়া ইসলাম ঢাকায় অবস্থিত ইজেন কনসালটেন্ট লিমিটেডে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত। নুসরাত সুমাইয়া কাজ করছেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের কক্সবাজার শাখায়। তিনি এখানে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান।

নাসরিন সুলতানা লিপি সম্প্রতি স্নাতক (সম্মান) শেষ করে বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশে ৪ মাস ইন্টার্নশিপ করেছেন। এখন দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স করার চেষ্টায় আছেন বলে জানান।

এ ছাড়া বিবি জয়নব কাজ করছেন ডব্লিউএফপি-এর কক্সবাজার শাখায়; ডিলুফা তুজ জেরিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে জেপিজি স্কুল অব পাবলিক হেলথে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন; শারমিন আক্তার শীতলও বিশ্ববিদ্যালয়ে জেপিজি স্কুল অব পাবলিক হেলথে গবেষণা সহকারী হিসেব কাজ করছেন এবং এ বছর ডব্লিউএইচও-এর বৃত্তি নিয়ে এখানেই মাস্টার্স করছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

সকলের বর্তমান অবস্থা জানার পাশাপাশি সকলকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রাখার জন্য ফেসবুকে একটা গ্রুপ খোলার প্রস্তাব করা হয়। এতে সকলেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিনথিয়া বলেন, ‘ প্রথম আলোর সঙ্গে যুক্ত থাকা আমাদের জন্য সুখবর। সব সময় চেষ্টা করব এখানে যুক্ত থাকার। তা ছাড়া আমাদের মধ্যে যাদের বিভিন্ন বিষয়ে এক্সপার্টিস আছে সেগুলোকে প্রথম আলো কাজে লাগাতে পারে।’

প্রতি বছর পরিবারের প্রথম নারী অথচ দরিদ্র যিনি উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ গঠনে আগ্রহী এ রকম ১০ জনকে বৃত্তি প্রদান করছে। ২০১২ সাল থেকে এইউডব্লিউ-প্রথম আলো ‘ফার্স্ট ফিমেল ইন দ্য ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ নামে দেওয়া হয় এইবৃত্তি। ট্রান্সকম গ্রুপের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এ শিক্ষাবৃত্তি শুরু হয়। ট্রান্সকমের সহায়তায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪২ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি এই শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব নিয়েছে। নতুন নামকরণ করা হয়েছে অদ্বিতীয়া। আইডিএলসির সহায়তা এ পর্যন্ত ২৬জনকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ট্রান্সকম ও আইডিএলসির সহায়তায় এ পর্যন্ত মোট ৬৮ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছে। এ বছর যুক্ত হচ্ছেন আরও ১০জন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনও তাঁদের বৃত্তি দেয়।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের মাহবুবা সুলতানা ও মো. নাজিম উদ্দিন। প্রথম আলো ট্রাস্ট অনুষ্টানটি আয়োজন করে।

মন্তব্য পড়ুন 0