‘ঝিঙে বেচো পাঁচ সিকেতে, হাজার টাকায় সোনা

বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচো না।’

এই গানের গীতিকার সমীর রায় বা শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় বন্ধু ছিলেন না। তাঁদের গান কখনো শুনেছেন কি না জানা নেই। তবু যেন আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে রাকিব উদ্দিনের কাছে সেই না-শোনা কণ্ঠ, না-দেখা সমীর রায় বা প্রতুলবাবু বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। ঝিঙে না বেচলেও হাতিয়ার চরকৈলাশ গ্রামের আলতাফ একজন চা-বিক্রেতা। সকালে বাবার চায়ের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে বর্গা জমিতে শ্রম দেওয়া ছিল রাকিবের প্রতিদিনের কাজ। চা-বিক্রির আয় দিয়েই টানতে হয়েছে সাত সদস্যের সংসার।

অভাবের মাঝেই বাবার ‘চোখের মণি’ রাকিব উদ্দিন লাল টুকটুকে স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন, আর সবার মতো পড়াশোনা করবেন, চাকরি করবেন। চায়ের চুলার আগুন একদিন নিভে যাবে, নিভে যাবে বুকের আগুনও। বাবা আলতাফও গোপনে একই স্বপ্ন দেখতেন। নিরুপায় বাবা তাই চোখের মণি রাকিবকে আগলে রাখতেন অন্য চোখের জলে। চা-আগুন-শ্রম-চোখের জল—সব, সব বেচেও লাল টুকটুকে স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টায় বিভোর ছিলেন। তাঁদের সেই মহৎ চেষ্টাকে উসকে দিয়েছে প্রথম আলো। এমন দরিদ্র ও অদম্য মেধাবীদের প্রথম আলো খুঁজে বের করে স্বপ্নপূরণে সহযোগিতা করে। সেই উদ্যোগেই রাকিব ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পান। এই অর্থে পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে প্রমোশন অফিসার হিসেবে নোয়াখালীতে কর্মরত। চায়ের চুলায় ফুঁ দিতে দিতে কালো হয়ে যাওয়া রাকিবের মুখে এখন ঝিন্টি ফুলের হাসি।

ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী কার্যক্রমের আওতায় প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলের ওপর ভিত্তি করে যথাক্রমে উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক শ্রেণিতে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে তাঁদের নির্বাচন করেন। অদম্য মেধাবী তহবিলের আওতায় এ পর্যন্ত ৯৪২ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সহায়তায় ৭১৮ জন, অন্যান্য ব্যক্তি ও দাতা সংস্থার সহায়তায় ২২৪ জনকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বৃত্তি পাচ্ছেন ২৭১ শিক্ষার্থী। স্নাতক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২২১ জনের মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৭, মেডিকেল কলেজে ১৯, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৫ ও দরিদ্র কোটায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষার্থী আছেন।

ইতিমধ্যে ৯৪ জন স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করে অনেকে চাকরি করছেন। তাঁদের জীবনে আড়মোড়া ভেঙে সুর তুলছে নতুন বসন্তের গান। সামনের সমূহ অন্ধকার পথ পেরোতে আলো হাতে ছুটে চলেছেন তাঁরা। এমন চার তরুণের মুখে ফুটে ওঠা হাসির আভা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

বিজ্ঞাপন

বর্গায় রাকিবের স্বপ্নের আবাদ

default-image

রাকিব উদ্দিনের জীবনের গল্প অনেকটা জানা হয়ে গেছে। এবারে আরেকটু পেছনে যাই। নোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার চরকৈলাশ গ্রাম। বিদ্যুৎ নেই। রাত নামার আগেই অন্ধকার নামে। কাজ থেকে ফিরে সন্ধ্যায় হারিকেনের টিমটিমে আলোয় পড়তে বসতেন রাকিব। কেরোসিন ফুরালে পড়া বন্ধ। তারপরও পড়ার নেশায় পেয়েছিল তাঁকে। শিক্ষকদের সহযোগিতায় অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দেন। পেয়েও যান বৃত্তি, যার অর্থে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০১০ সালে সুখচর ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন। ফলাফল জিপিএ-৫।

এত ভালো ফলে খুশি হলেও অজানা শঙ্কা ভর করেছিল বাবা আলতাফের মনে। কলেজে পড়ার টাকা কোথায় পাবেন—এই শঙ্কায় অস্থির বাবা। ওই বছরই অদম্য মেধাবী রাকিবের সাফল্যের খবর প্রকাশিত হয় প্রথম আলোতে। পরে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পান। সেই টাকায় ভর্তি হন ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজে। এরই মধ্যে বাবা সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন, বন্ধ হয় চায়ের দোকান। সংসারে নতুন বিপদ এলেও পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। ওয়েট প্রসেস ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক (বিএসসি) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পান প্রিন্সিপাল অ্যাওয়ার্ড। আন্তবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা ট্যালেন্ট কম্পিটিশন অব টেক্সটাইল-২০১৬–তে চ্যাম্পিয়নও হন। বর্তমানে তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চিকিৎসা করিয়েছেন। বাবা আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। পরিবারেও ফিরতে শুরু করেছে কাঙ্ক্ষিত সচ্ছলতা।

রাকিব বলেন, ‘প্রথম আলো আমার জীবনের অংশ। ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এখন প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরি পেয়ে পরিবার–দেশের উন্নয়নে সংযুক্তির সুযোগ পেয়েছি। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে।’

ক্রুশ কাঁটায় স্বপ্নের উড়াল

default-image

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি এলাকার মোছা. মুক্তা খাতুনের বাবা তাঁতশ্রমিক। মা ক্রুশ কাঁটার কাজ করেন। মাকে সাহায্য করতে করতেই ক্রুশ কাঁটায় নিজের স্বপ্ন বুনেছিলেন মুক্তা।

বাবা-মা ও দুই ভাই–এক বোনের অনটনের সংসার। তাই পরিবারের বড় সন্তান মুক্তা স্বপ্নপূরণে যে পড়াশোনার বিকল্প নেই, তা বুঝতে পেরেছিলেন। আর মা দিয়েছেন উৎসাহ। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলেন মুক্তা। সেই অর্থ ও অনটন সঙ্গী করেই ২০১১ সালে গাড়ামাসী-জিধুরী জেএস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এরপরই ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পান। সেই অর্থে ২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেন। এবারও ফল জিপিএ-৫। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। সম্প্রতি তিনি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে চুক্তিভিত্তিক প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ছোট দুই ভাইকে পড়াশোনার খরচসহ তিনি এখন সংসারে সহযোগিতাও করছেন।

মুক্তা বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি জীবনকে সহজ করেছে। এটা ছাড়া এত দূর আসা কঠিন হয়ে যেত। যারা অনটনের ভেতর লেখাপড়া করে জীবনকে বদলের চেষ্টা করছে, আমি তাদের সাহায্য করে নিজের হাসি ছড়িয়ে দিতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

লিঙ্কনের বসন্ত-বিস্তার

default-image

ফেনী জেলার কুটিরহাট এলাকার লিঙ্কন চন্দ্র ঘোষের বাবা অসুস্থ। মা গৃহিণী। বাবা সুনীল ঘোষের জমিজিরাত নেই, যা আছে তা নিদারুণ অনটন। এমন সংসারে পড়াশোনা করাটা বিলাসিতা মনে হয়েছিল লিঙ্কনের। কিন্তু তিনি জানতেন, বসন্ত কেবল ফাল্গুনে নয়, অপেক্ষা করলে চৈত্রেও কোকিল ডাকে দেদার। ‘এই সংসারে থেকে পড়ালেখা সহজ ছিল না। একটা শার্ট, একটা প্যান্ট দিয়েই বছর কাটাতে হতো। পূজার সময় সবাই নতুন জামা পরত। মন খারাপ হতো। যেখানে তিন বেলা খাবার জোটাতেই হিমশিম, সেখানে বাবাকে আর জামার কথা বলার সাহস হতো না’—লিঙ্কনের সরল স্বীকারোক্তি।

এই দুর্গম পথ পার করে হেঁটে যেতে হবে লাখো মাইল—এই জেদ নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন মেধাবী লিঙ্কন। মনে মনে চাইতেন—এসো পথ, তুমি সরল হয়ে এসো।

২০১০ সালে ফেনীর বিষ্ণুপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এবার খোঁজ মেলে সেই সরল পথের, যার নাম প্রথম আলো। যার উদ্যোগে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পান তিনি। এইচএসসিতে কৃতিত্ব ধরে রাখায় স্নাতক পর্যায়েও একই বৃত্তি পান। সুযোগ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ভর্তির। সেখান থেকে বিবিএ–এমবিএ শেষ করে চলতি বছর ঢাকায় জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন লিঙ্কন।

লিঙ্কন বলেন, এবার পূজায় মা-বাবার জন্য জামাকাপড় কিনেছেন। তাঁদের হাতে নতুন কাপড় তুলে দিয়ে বেশ আনন্দিত। সেই আনন্দে হয়তো তাঁর চোখের নিচ দিয়ে কান্নার মতো নেমে যায় পুরোনো অনটন।

ফাল্গুনীর রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ

default-image

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ফাল্গুনী সাহার জীবনের গল্পটা অন্য সবার চেয়ে আলাদা। জীবন বুঝে ওঠার আগেই কঠিন বাস্তবতা বুঝতে হয়েছে তাঁকে। দুই বছর বয়সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর দুই হাত। যে হাত দিয়ে জীবনের মেঘ সরিয়ে স্বপ্নের সিঁড়ির রেলিং ধরবেন, অতটুকুন বয়সে সেই দুই হাত কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে ফাল্গুনীর। এতে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, বন্ধ হয় সহচরীদের সঙ্গে পুতুল খেলাও। ঘরবন্দী জীবনে আর কোনো স্বপ্ন না দেখলেও দমে যাননি ফাল্গুনী।

‘আলু বেচো, ছোলা বেচো, বেচো বাখরখানি/ বেচো না বেচো না বন্ধু তোমার চোখের মণি’—প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের হৃদয়চেরা এই গানের মতোই মুদিদোকানি বাবা জগদীশ চন্দ্র সাহা আলু–ছোলা বেচতেন। স্বপ্ন দেখতেন তাঁর হাতহীন মেয়েই একদিন সবার প্রতি শক্ত হাত বাড়িয়ে দেবেন। সেই অদৃশ্য হাত শীতল হাওয়া দেবে, স্বস্তি দেবে, দেবে বিপুল ভরসা। জগদীশের একার আয়ে চার মেয়েসহ ছয়জনের সংসারের অনটন টানাও কষ্টসাধ্য। তাই মা ভারতী সাহা মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করে বেচতেন।

অদম্য ফাল্গুনী তাই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর সংসারের টানাপোড়েন নিয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পান। কিন্তু কলেজে ভর্তিসহ পড়াশোনার খরচ আসবে কোত্থেকে—এই ভাবনায় অস্থির বাবা জগদীশ চন্দ্র। এগিয়ে আসে স্থানীয় ট্রাস্ট কলেজ। ওই কলেজের সহায়তায় ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ফাল্গুনী জিপিএ–৫ পান।

ফাল্গুনী সাহা জানান, এরপর আর স্বপ্ন দেখেননি তিনি। কারণ, সামনে যাওয়ার আর সিঁড়ি চেনা নেই। উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সাধ্য নেই, তাই সাধ করেননি। সিঁড়ি হয়ে এল প্রথম আলো। ২০১৩ সালের ৪ ও ১৬ আগস্ট ফাল্গুনীর সাফল্য নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্রথম আলোয়। পরে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পান। আবারও হাসি ফোটে তাঁর মুখে, স্বপ্নেরা জেগে ওঠে। শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৪ সালে মাথার ওপর ছাতা হয়ে থাকা বাবার মৃত্যু হয়। কিছুটা ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি। স্নাতক শেষে ২০১৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরের বছর বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের বরিশাল সদর কার্যালয়ে মানবসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ফাল্গুনী।

ফাল্গুনী বলেন, ‘প্রথম আলো সহযোগিতা করেছিল বলেই নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্নপূরণে সিঁড়ি দেখিয়েছিল ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি। সবাইকে নিয়ে আগের চেয়ে ভালো আছি।’

হাতহীন মেয়েই একদিন সবার প্রতি শক্ত হাত বাড়িয়ে দেবেন—বাবার এই স্বপ্ন পূরণ করেছেন ফাল্গুনী। চার বোনের মধ্যে দুজনের বিয়ে হয়েছে। এক বোন ও মাকে নিয়ে ফাল্গুনী এখন বরিশালে থাকেন। ছোট বোনকে বিএম কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়াশোনায় সহযোগিতা করছেন। মাকে আর মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করে বেচতে হয় না। জীবনের সমূহ বর্ষা পেরিয়ে এখন ফাল্গুনীর জীবনে শুধুই ঝলমলে রোদের দুপুর।

মন্তব্য পড়ুন 0