পটুয়াখালীতে বন্যার্তদের মধ্যে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত মঙ্গলবার পটুয়াখালীর গলাচিপার আগুনমুখা নদীতে জেগে ওঠা চর কারফারমারে।
পটুয়াখালীতে বন্যার্তদের মধ্যে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত মঙ্গলবার পটুয়াখালীর গলাচিপার আগুনমুখা নদীতে জেগে ওঠা চর কারফারমারে। ছবি: প্রথম আলো

উত্তাল আগুনমুখার মোহনায় জেগে ওঠা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কারফারমারের বাসিন্দা রহিমা বেগমের বাড়ি ছিল ভোলার গঙ্গাপুর এলাকায়। ঘর ছিল। পুকুরে মাছ, ফসলি জমি ছিল। তেঁতুলিয়ার ভাঙনে সব বিলীন হলে প্রায় ১৫ বছর আগে স্বামী সোহরাব প্যাদার সঙ্গে এই চরে এসে আশ্রয় নেন। সেই থেকে চরে ঝড়ঝঞ্ঝা আর জোয়ারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস।

এ বছর একবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময়, আরেকবার গত মাসে টানা বৃষ্টি আর নদীর বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানিতে নাকাল হতে হয় রহিমাকে। করোনাকালে কাজ নেই। খাবার নিয়ে টানাটানি পড়েছে সংসারে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার এই চর কারফারমারের বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত ১০০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়। ত্রাণ পেয়ে রহিমা বেগম বলেন, ‘ঘরে পানি, বাইরে পানি। থই থই করে পানি। জোয়ারের পানিতে একবার ঝুপড়ি ঘরডা ভাসছে, আবার গেল আম্পানের সময়ও একবার ভাসছে। আগে মাছের ট্রলার আইতো। মাছ বাছতাম। চরে অন্যের গরু-মইষ পালতাম। এহন কাম নাই। কেউ কষ্ট কইরা আমাগো এইহানে আহে না। ত্রাণও দেয় না। ক্যামনে বাঁচমু আমরা।’

চরের বাসিন্দারা জানালেন, নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে দুই শতাধিক পরিবার বিভিন্ন সময় এই চরে এসে আবাস গাড়ে। এই পরিবারগুলো মাছ ধরে, সাগর থেকে মাছ ধরে আসা ট্রলারগুলোর ছোট মাছ বাছাই করে, অন্যের গরু-মহিষ লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। করোনার প্রভাবে কর্মহীন চরের মানুষ। এর মধ্যে মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় এই চর। এরপর গত ১৯ আগস্ট থেকে টানা পাঁচ দিন বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানিতে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। এখানে নেই কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। চরবাসীর নিরাপদ আশ্রয় বলতে আছে মাটির কিল্লা।

বিজ্ঞাপন

ত্রাণ নিতে আসা এই চরের আরেক বাসিন্দা কোহিনুর বেগমের (৫০) বাড়ি ছিল ভোলার লালমোহনে। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে সব খুইয়ে তিনিও এখানে আশ্রয় নেন। এ বছর বন্যার পর জোয়ারের পানিতে ঘরে যা খাবার ছিল, তাও ভেসে গেছে। কোহিনুর বলেন, ‘কয় দিন ধইরাই ঘরে চাইল-ডাইল নাই। অসুস্থ স্বামীরে লইয়া চরের খালে মাছ ধরি। হেতে সংসার চলে না। আপনারা যে ত্রাণ দিলেন এই দিয়া কয় দিন চলবো, এরপরে কী যে অইবো।’

ওই ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন প্রথম আলো পটুয়াখালী বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, মেহেদি হাসানসহ অন্যরা। পরিবারগুলোকে দেওয়া ত্রাণের প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, তেল, লবণ ও আলু।

বিজ্ঞাপন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

মন্তব্য পড়ুন 0