বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাটপাঙ্গাসী গ্রাম থেকে ইউরোপের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জার্নি সম্পর্কে সুজন জানালেন, ‘২০১১ সালে যখন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ভালো ফল করি, তখন ইচ্ছে ছিল ভালো একটা কলেজে ভর্তি হব। ভালোভাবে পড়াশোনা করব। কিন্তু ভালো ফল ও ভালোর স্বপ্নের সঙ্গে একটা দু:স্বপ্ন ছিল দারিদ্র্যতা। ইচ্ছে হলেও যে একটা ভালো কলেজে ভর্তি হব সে সামর্থ্য তখন ছিল না। ঠিক সেই দু:সময়ে পথ দেখায় প্রথম আলো, ব্র্যাক ব্যাংক। তাদের সহযোগিতায় আমি উত্তরবঙ্গের একটা সেরা প্রতিষ্ঠান বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হই। প্রতি মাসে যে বৃত্তির টাকা পেতাম সেটা দিয়ে আমার পড়াশোনার পথ সুগম হয়।এরপর থেকে প্রথম আলোর সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এর পেছনে ছিলেন প্রথম আলো রায়গঞ্জের উপজেলার প্রতিনিধি সাজেদুল আলম চাচার মাধ্যমে।’

তিনি আরও জানালেন, ‘অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ভালোভাবে পড়াশোনা করে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পাই। ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি আবারও অব্যাহত থাকে স্নাতক পর্যায়ের জন্যও। নতুন করে মনে সাহস পাই। ভর্তির সুযোগ পাই দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগে।এখানে পড়ার পাশাপাশি স্বপ্ন দেখি দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য। সে অনুযায়ী খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করি। চলে প্রস্তুতিও। পরে স্নাতক (বিএসসি) শেষ করেই বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির জন্য আবেদন শুরু করি। প্রথম কয়েকটাতে কোনো সাড়া না পেলেও, এক সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মর্যাদাপূর্ণ ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হই। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত বছর ‘মাস্টার্স প্রোগ্রাম ইন প্ল্যান্ট ব্রিডিংয়ে’ ফ্রান্সের ইউনিলাসাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করি। পরে জার্মানিতে এবং বর্তমানে ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ হেলসিংকি’তে পড়ছি। এটাই আমার জার্নি। এই জার্নিতে প্রথম আলো ট্রাস্ট এবং ব্র্যাক ব্যাংক আমার পাশে ছিল। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।’

default-image

অল্প সময়ের মধ্যে জার্নিটা সুজন জানালেও পুরো জার্নিটা যে কঠিন ছিল সেটা বোঝা যাচ্ছে। সুজনের এই অভিজ্ঞতা থেকে নতুনদের জন্য কি পরামর্শ হবে জানতে চাইলে জানান, ‘বিনা খরচে দেশের বাইরে পড়তে চাইলে প্রথমেই স্বপ্ন দেখতে শিখতে হবে। অনার্স ফার্স্ট ইয়ার ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটগুলো দেখতে হবে। নিজেকে কিভাবে তৈরি করতে হবে এটা এখন ইউটিউব, ফেসবুক দেখলেও ফুল আইডিয়া পাওয়া যায়। তবে একাডেমিক ফলাফলও ভালো হতে হবে। সিজিপিএ ভালো হলে বৃত্তি পাওয়া সহজ হয়। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি করতে হবে। ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট যেমন আইইএলটিএস বা টোফেল এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সব ঠিক থাকলে একটা ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সুযোগ হবে আশা করি।’

শোনা যায় অনেকে দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে গিয়ে আর ফেরে না। সুজনের পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে জানান, ‘খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন। প্রথমে মাস্টার ডিগ্রি শেষ করব। তারপর উচ্চতর গবেষণার জন্য চেষ্টা করব। ডক্টরেট করারও ইচ্ছা আছে। তবে দেশে যদি গবেষণার জন্য ভালো কোনো সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই দেশে ফিরব। দেশের জন্য কিছু করতে পারলে অবশ্যই লাগবে আমার।’

default-image

এখন যারা শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত অদম্য মেধাবী আছেন তাঁরা যদি বাইরে যেতে চান, কি পরামর্শ দেবেন? সুজন বলেন, ‘খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে আমি দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য প্রস্তুত হতে চাই। তখন আমি আমার আমার অভিজ্ঞতা থেকে তাদের সহযোগিতা করি। তখন অনেক ভালো লাগে কাজটা করে। এখন যারা অদম্য মেধাবী আছে তাদের বলব, আমার দুয়ার সব সময় খোলা। সবাইকে ওয়েলকাম জানাই। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাগুলো জানতে হবে। যে রিকোয়ারমেন্ট প্রয়োজন সেগুলো ফুলফিল করতে হবে। সেগুলো ফুলফিল করার জন্য যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন সে ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তারপর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি আপনার পছন্দের বিষয়গুলোতে আবেদন করা শুরু করতে হবে। অনেক ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা আছে, সেগুলো খুঁজে বের করে ঠিকঠাকভাবে আবেদন করা গেলে অবশ্যই কোনো না কোনো বৃত্তি পাবেন।’

অনেক অদম্য আছেন যারা সাহস হারিয়ে ফেলেন, মনে করেন যে আমাকে দ্বারা আর হবে না ।আমি মনে হয় এই থেমে গেলাম, এ রকম মনোভাব তৈরি হয় তাঁদের জন্য আপনার কি পরামর্শ হবে? সুজন জানালেন, ‘যারা সাহস হারিয়ে ফেলেন বা মনোবল হারিয়ে ফেলেন তাদের জন্য পরামর্শ হলো: জীবনে চলার পথে নানা রকম বাধা এবং সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর্থিক, পারিবারিক বা সামাজিক নানা সমস্যা পোহাতে হয়। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, সমস্যাকে বড় করে না দেখে স্বপ্নকে বড় করে দেখতে হবে। তবে সফল হওয়া সহজ হবে। তা ছাড়া আমাদের যারা অদম্য মেধাবী আছেন তাঁদের অনেকেই ভালো ভালো জায়গায় আছেন। তাঁদের কাছে আসলে, তাঁদের পরামর্শ নিলে অনেক কিছুই সমাধান হয়ে যাবে আশা করি।’ পরিশেষ প্রথম আলো ট্রাস্ট ও ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য শেষ করেন সুজন কুমার ভাদুড়ী।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন