এমরান ডাক্তার হতে চায়

মো. এমরান

ভোলা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নূরউদ্দিন। পেশায় তিনি একজন নৌকার মাঝি। নিজে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। কিন্ত ছেলে মো. এমরান মদনপুর আলোর পাঠশালার নবম শ্রেণির ছাত্র। মো. নূরউদ্দিন বলেন,‘আমি যত কষ্ট করি না কেন আমার ছেলেকে পড়াশোনা করাতে চাই।’

মো. এমরান বলেন, 'আমি পড়াশোনা করতে চাই, বড় ডাক্তার হয়ে এই চর এলাকায় মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। মদনপুর আলোর পাঠশালার কারণে আজ আমি ছাত্র। পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছি। মাঝে মাঝে এই স্কুল থেকে আমাদের ত্রাণ সামগ্রী দেয়,পোশাক দেয়, শীতে কম্বল দেয়, কাগজ, খাতা, কলম, স্কুল ব্যাগ দেয়। তাই আমার আমার পড়াশোনার জন্য বাবার খরচও কম হয়।’

মো. এমরান

মদনপুর আলোর পাঠশালা সহকারী শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ভোলা জেলা একটি দ্বীপ। তার মাঝে মদনপুর ইউনিয়নটি আরও একটা দ্বীপ। তাই এখানকার স্থানীয় মানুষদের শিক্ষা নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ নেই। তারা নিজেরা অন্যের জমিতে চাষ করা, নদীতে মাছধরা, পশুপালন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। এমনকি, সন্তানদের দিয়েও একই কাজ করাতে চান। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ছেলেরা মাঠে কাজ করে, গরু মহিষ ছাগল ভেড়া চরায়। বাবার সঙ্গে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করে। মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়।’

মদনপুর আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ’এমরান প্রতিবন্ধী হলেও কখনো স্কুল বন্ধ দেয় না, প্রতিদিন স্কুলে আসে এবং ভালো ছাত্র। প্রায় সব পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। স্কুলে শতভাগ উপস্থিতি তার । শ্রেণি ক্যাপ্টেনও নির্বাচিত হয়েছিল । প্রতিবন্ধী হলেও এমরানের বিশেষ ভূমিকা হলো সে বাল্যবিবাহ এর ঘোরবিরোধী।’

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে বহুদিন শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি এ রকম অবহেলিত কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। সামিট গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় প্রথম আলো ট্রাস্ট মদনপুর আলোর পাঠশালাসহ ৬টি স্কুল পরিচালনা করছে।