default-image

নাসিমা বেগমের ঘরেও একহাঁটু পানি। স্বামী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে মাচা করে থাকছেন। ত্রাণবাহী ট্রলার গিয়ে থামল নাসিমার বাড়ির উঠানে। এরপর হাঁটুপানি মাড়িয়ে প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা নাসিমার হাতে ত্রাণ তুলে দেন। ঘরের মধ্যে ত্রাণ পেয়ে নাসিমা বললেন, ‘বন্যার পানিতে ডুইবা মরতাছি। স্বামী তো ঘরে পড়া, তারে লইয়া কই জামু? ঘরে যা খাওন ছিল, তা আগেই শ্যাষ। গেল দুই বেলা পোলামাইয়া লইয়া না খাইয়া রইছি। কেউ খাওন নিয়া ঘরে আইব, তা চিন্তাও করি নাই।’

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর জানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা বেগম। মৎস্যজীবী স্বামী এক মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায়। আয় না থাকায় এখন দুবেলা খাবারই জুটছে না।

গতকাল রোববার প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পদ্মার চরের বন্দরখোলা ইউনিয়ন ও চর জানাজাতের ১০০টি বানভাসি পরিবারের বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়। মাদারীপুর বন্ধুসভার সভাপতি সোহেল রানা, উপদেষ্টা মহসিন খানসহ অন্য সদস্যরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন। ত্রাণ হিসেবে তাঁদের দেওয়া প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবান। এ ছাড়া মাদারীপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা চিকিৎসক অখিল সরকার কিছু খাওয়ার স্যালাইন ও প্যারাসিটামল ট্যাবেলট বিতরণের জন্য দেন। আরও কিছু সাধারণ ওষুধ (ওটিসি ড্রাগ) কেনা হয়। ত্রাণের নৌকায় থাকা স্বাস্থ্য সহকারী গৌতম হাজরার পরামর্শে বানভাসিদের খাওয়ার স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়।

বন্দরখোলা ইউনিয়নের ষাটোর্ধ্ব আহম্মেদ হাওলাদার বাড়ির সামনে ডিঙি নৌকা নিয়ে পশুখাদ্য জোগাড়ের আয়োজন করছিলেন। বাড়ির উঠানে ত্রাণ হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘ঘরবাড়ি ভাঙতে ভাঙতে এহনে এইহানে আইয়া পড়ছি। দিন যায় আর বানের পানি বাড়ে। ঘরের মধ্যে মাচা কইরা থাকতাছি, খাওনদাওন লাইয়া খুব কষ্টে আছি। আম্মেরা এইহানে আইয়া খাওনের প্যাহেট দিবেন, চিন্তাও করবার পারি নাই।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0