default-image

শারীরিক প্রতিবন্ধী হাসমত আলী ও দৃষ্টিহীন আয়নাল হোসেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নলীনবাজারে ভিক্ষা করেন। দিন শেষে যা পান, তা দিয়েই এত দিন স্ত্রী–সন্তান নিয়ে কোনোরকমে চলেছেন। করোনাকালে ঘর থেকে বের হননি কিছুদিন। বের হলেও বাজারে আর আগের মতো ভিক্ষা মেলে না। প্রতিবন্ধিতার শিকার দুজনের জন্যই জীবন যখন কঠিন হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই হানা দেয় বন্যা। এখন আধপেটা খেয়ে, কখনোবা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে, জীবন যেন আর চলছে না।

প্রায় এক মাস ধরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার যমুনাপারের গ্রাম জগৎপুরা, গুলিপেঁচা, নলীনসহ বাঁধের পূর্ব প্রান্তের এলাকা বন্যায় তলিয়ে আছে। ৩টি গ্রামের ১০০ বানভাসি পরিবারকে গতকাল রোববার প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ত্রাণ দিয়েছেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

ত্রাণ নিতে এসেছিলেন হাসমত আলী ও আয়নাল হোসেন। দুজনেই জানান, এখন চেয়েচিন্তেও পরিবারের খাবার জোটাতে পারছেন না। প্রথম আলোর মতো অন্যরাও এগিয়ে না এলে এ যাত্রায় তাঁদের মতো অনেকের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।

জগৎপুরা গ্রামের রূপবান বেগমের স্বামী নেই। উদয়াস্ত অন্যের বাড়িতে কাজ করে চার ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে এত দিন চলেছেন। করোনাকালে কাজ কমেছে। এর মধ্যেই বন্যায় ঘর ডুবেছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ পেয়ে রূপবান বলেন, ‘কামকাজ নাই, ঘরে খাবার নাই। যা পাইলাম, তা দিয়া দু-এক দিন খাওন চলব।’ তারপর কী হবে, তা জানেন না রূপবান।

টাঙ্গাইল শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে গোপালপুর উপজেলার নলীনবাজার–সংলগ্ন মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই ত্রাণ দেওয়া হয়। ত্রাণের প্রতিটি ব্যাগে ছিল চাল, ডাল, চিড়া ও গুড়। ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন জগৎপুরা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার জাহান, নলীন নঈম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়ামত আলী খান, গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের সংগঠক আবদুস সাত্তার খান প্রমুখ।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0