বগুড়ায় বন্যার্তদের মধ্যে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত শুক্রবার দুপুরে সারিয়াকান্দি উপজেলার বিরামের পাঁচগাছি চরে।
বগুড়ায় বন্যার্তদের মধ্যে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত শুক্রবার দুপুরে সারিয়াকান্দি উপজেলার বিরামের পাঁচগাছি চরে। ছবি: প্রথম আলো

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার খাটিয়ামারি চরের ফজুল প্রামাণিকের বিধবা স্ত্রী খোতেজা বেওয়ার (৬৫) সংসারে কেউ নেই। মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করেন তিনি। করোনা সংক্রমণের কারণে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত টানা তিন মাস ভিক্ষায় বের হতে পারেননি। পাড়া–প্রতিবেশীর কাছে পান্তাভাত কিংবা চিড়া–মুড়ি চেয়ে খেয়েছেন। এর মধ্যে বন্যায় বুকসমান পানিতে ডুবে থাকা বসতঘরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করেছেন। ঘরে ছিল না চাল, ডাল, লবণ, মরিচ। দুই মাসে ত্রাণের চাল পেয়েছেন ১০ কেজি। সেই চাল দু–এক দিন পরপর সেদ্ধ করে কোনোরকমে জীবন বাঁচিয়েছেন। এখন বসতবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও চরম অভাবে দিন কাটছে এই বৃদ্ধার।

গত শুক্রবার প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বগুড়া বন্ধুসভার সদস্যরা যখন খোতেজা বেগমের হাতে ত্রাণসহায়তার ব্যাগ তুলে দেন, তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন যমুনাচরের এই অসহায় নারী। ত্রাণসহায়তার ব্যাগে ছিল চাল, মশুর ডাল, সয়াবিন, লবণ ও পেঁয়াজ।

বিজ্ঞাপন

খোতেজা বেওয়া বলেন, ‘চ্যায়া–চিন্তা খাই। মানুষ ভিক্ষা দিলে প্যাটত ভাত জোটে। করোনাত মানুষের বাড়িত ভিক্ষা চাবার যাবার পারিনি। এক বেলা পান্তাভাত খায়্যা তিনডা মাস গেচে। তার ওপর আবার দুই মাসের বানের ঢল হামাক শ্যাষ করে দিচে। ইলিপের চাল দিয়্যা আজ মিচ্চি অ্যানা খিচরি আন্দমো। ম‍্যালাদিন বাদে আজ এ‍্যানা প‍্যাট ভরে খামু।’

সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিরামের পাঁচগাছি চরে খোতেজা বেওয়াসহ শতাধিক বানভাসি মানুষের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো বগুড়া বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক এস কে কাব্য ও যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ ফয়সাল।

ত্রাণ পেয়ে তেলিগাড়ি চরের বৃদ্ধ আশরাফ আলী (৭৫) বলেন, ‘করোনা আর বানে জীবনডা এক্কেবারে শ্যাষ। একশ বছরেও চরত ইংকা অভাব-কষ্ট কোনোদিন আসেনি। এক বেলা ভাত জুটলে তিন দিন গেচে না খায়্যা।’

খাটিয়ামারি চরের স্বামীহারা কমলা বেওয়া (৭৫) বলেন, ‘চতুরমুখে খালি পানি আর পানি। বানত ভ্যাসে জানডা হামার বার হয়্যা গেচে। দুই দিন থ্যাকে কিচ্চু খাইনি। ইলিপডা পায়্যা জানডা শীতল হয়্যা গেচে। অনেক দিন পর আজ প্যাট ভরে গরম গরম ভাত খাবার পারমো।’

নদীভাঙনে বসত হারিয়ে চাড়ালকান্দি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন বিরামের পাঁচগাছি চরের সাবেদ আলী (৮০)। তিনি বলেন, ‘বুড়া মানুষ। চলবার পারি না। দুদিন থ্যাকে বউয়ের প্যাটত ভাত পড়েনি, ইলিপডা বাড়িত লিয়ে গেলে বউডা খুব খুশি হবি। ইলিপের চাল দিয়্যা আজ ভাত রান্ধে খাবে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন