প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়। ত্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরছে চরবাসী। গত মঙ্গলবার বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর চরে।
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়। ত্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরছে চরবাসী। গত মঙ্গলবার বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর চরে। ছবি: সোয়েল রানা

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার খাবুলিয়া চরে তিন মাস আগেও শতাধিক পরিবারের বসতি ছিল। মরিচমতি বেওয়ারও (৭০) ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই। এ বছর যমুনার ভাঙনে চরটিতে আর বসতির চিহ্ন নেই। বন্যার দুই মাসে ১০ কেজি চাল ত্রাণ হিসেবে পেয়েছেন। সব হারানো মরিচমতির ঠাঁই হয়েছে চুকাইনগর প্রস্তাবিত গুচ্ছগ্রামের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার বন্যা-নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত সোনাতলার তেকানিচুকাইনগর ইউনিয়নের ১০০ অসহায় পরিবারকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়। ত্রাণ নিতে আসা মরিচমতি বেওয়া বলেন, ‘ঘরত ভাত রান্ধার চাল নাই। নুন, তেল, পইত্তা কিনার জন্যি হাতত অ্যানা টেকাও নাই। নুন-পইত্তা দিয়ে আনলা পান্তা মাখে খামো, কপালত সেকনাও জুটিচ্চে না।’

মঙ্গলবার বগুড়ার প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যদের সহযোগিতায় চুকাইনগর চরে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণসহায়তার প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, লবণ, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজ।

ত্রাণ নিতে আসা পক্ষাঘাতগ্রস্ত আকবর আলী শেখ (৭০) বলেন, চালুয়াবাড়ি চরে তাঁদের বাপ-দাদার ভিটা ছিল। যমুনায় বসতভিটা হারিয়ে ওঠেন আউচারপাড়া চরে। মাস দুয়েক আগেও সেখানে প্রায় সাড়ে চার শ পরিবারের বসতি ছিল। এখন সব যমুনার পেটে।

বিজ্ঞাপন

তরুণী গৃহবধূ বুলবুলি বেগম বলেন, ‘তিন মাস আগত খাবুলিয়া চরডা যমুনা খ্যায়া ফালালো। দিশকূল না পায়্যা কোলের ছলডা লিয়া এটি আসে উঠনো। এখন চরত কাম নাই। সয়ামির কামাই নাই। ঘরত খাবার নাই। হাতত টেকা নাই। ভিটা নাই। কী করমো, কোন্টে যামো। কোনো দিশকূলই পাচ্চি না।’

বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ-দুর্গতি শেষ হয়নি চুকাইনগর গুচ্ছগ্রামের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠা শাহেনা বেগম, শিল্পী, মৌসুমী, শারমিনদের।

খাবুলিয়া চরের গুনাই ব্যাপারী (৭৫) বলেন, চরে তাঁর আট বিঘা আবাদি জমি ছিল। ছিল বসতবাড়ি। নদীভাঙনে চর বিলীন হলে হারান বসতভিটা। খাদেক আলী ব্যাপারী ও স্ত্রী হালিমা খাবুলিয়া চরের বসত হারিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন চুকাইনগর চরে। হালিমা বলেন, ‘দশ বিঘা জমিন আচলো, গোয়ালত দুকনা গরু আচলো। লদি ভাঙনত জমিজমা শ্যাষ। দুই মাস বানের ঢলত ভাসিচি।’

বিজ্ঞাপন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

মন্তব্য পড়ুন 0