default-image

প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালায় এ বছর মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৪৬ জন। যা ২০২০ ও ২০১৯ এ ছিল যথাক্রমে ২৫৩ ও ২৮০ জন। চরটিতে এখন মোট ৩০০টির মত পরিবারে বাস। গত তিন বছরের পরিসংখ্যান দেখা যায়, প্রতি পরিবার থেকে অন্তত একজন শিশু বিদ্যালয়মূখী হচ্ছে। সামিট গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ চরে গড়ে ওঠে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা। পাঠশালাটিতে তিনটি আধা–পাকা একাডেমিক ভবন রয়েছে। যার উপরে টিনের চালা, টিনের বেড়া ও মেঝে পাকা। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্মাণ হয়েছে শৌচাগার। শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষক।

কুড়িগ্রামের সরকারি তালিকা অনুসারে, মোট ১৬টি নদ-নদীর বুকে ৪৫০ টি চর রয়েছে। দূর্গম এ চরটিতে ছিল না কোনো বিদ্যালয় ও শিক্ষার আলো। চরের হাজার হাজার মানুষ ছিল শিক্ষার মত একটি প্রধান মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। পাঠশালাটিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শুরু করে ২০১২ সালে।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে ১৮৩ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে । ২০১২ সালের পূর্ব পর্যন্ত শুধু প্রাথমিক শিক্ষা চালু থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে যুক্ত হয়েছে নিম্নমাধ্যমিক স্তর। ২০১৬ সাল থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শুরু করে ২০২০ সাল পর্যন্ত। কৃতকার্য হয়েছে ৫৩ জন শিক্ষার্থী। এ পাঠশালা থেকে উত্তীর্ণ বেশকিছু শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকে পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন।শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানান স্বপ্ন। আব্দুর রহিমের স্বপ্ন ব্যাংকার হওয়ার, আব্দুল মান্নান, আশরাফুল আলম, মোস্তফা কামাল হতে চায় সরকারি কর্মকর্তা ও মো. মমিনুল ইসলাম সেনাবাহিনীতে যোগযোগ করে দেশের সেবায় নিয়ােজিত থাকতে চান। কথা হয় আরিফ হোসাইনের সঙ্গে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়বেন। গ্রাজুয়েশন শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হব।

অন্যদিকে ২০১২ সালে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে হযরত আলী এখন মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্র। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যোগদানে ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই যে তারা স্বপ্ন দেখছেন, স্বপ্ন দেখতে শিখছেন, সমস্ত কৃতিত্ব আলোর পাঠশালাকে দিতে চান ।

মামুন-উর-রশিদ: সহকারী শিক্ষক ,প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা, কুড়িগ্রাম।

প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন